দেশের বাজারে পেঁয়াজ আবারও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সরবরাহ কমার অজুহাতে কয়েক দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে কিছুদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠলে দাম কমে যাবে বলে ধারণা বাজার সংশ্লিষ্টদের।
রাজধানীর বাজারগুলোতে ভালো মানের দেশি পেঁয়াজের দাম ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে তিন দিন আগেও এসব পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। নতুন পাওয়া মুড়িকাটা পেঁয়াজও কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশীয় পেঁয়াজের মৌসুম প্রায় শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি না থাকায় বাজারে চাপ আরও বেড়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রতিবছর এ সময়ে মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। তিন দিন আগেও প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে শনিবার সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দাম আবার নেমে আসে সাড়ে ৩ হাজার টাকার ঘরে। এদিকে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষক আগাম বা অপুষ্ট মুড়িকাটা পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর টাউন হল, কৃষি মার্কেট ও রামপুরা বাজারেও একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পুরোনো দেশি পেঁয়াজ সেখানে কেজিতে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের বিক্রেতারা জানান, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম কমে ৭০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে নেমে আসতে পারে। তাদের মতে, প্রতিবছরই মৌসুমের শেষভাগে কিছুদিনের জন্য দাম বাড়ে।
পেঁয়াজের বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান করে সরকারের ট্যারিফ কমিশন বলছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দাম বৃদ্ধির পেছনে চারটি কারণ বিশেষভাবে কাজ করে। মৌসুমের শেষভাগে কৃষকের ঘরে মজুত কম থাকা, সরকারি সংরক্ষণাগারের অভাবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হওয়া, উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা এবং বৃষ্টিতে আগাম পেঁয়াজ নষ্ট হওয়া– এসব কারণেই প্রতিবছর এ সময়ে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে সরবরাহের সংকট, মৌসুমের শেষভাগ, আমদানি না হওয়া এবং অসাধু সিন্ডিকেট–এ চার প্রভাবের কারণে পেঁয়াজের বাজারে বাড়তি ঝাঁজ দেখা দিয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আশা, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় আমদানি শুরু হলে অচিরেই বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হবে।









