ঈদ উপলক্ষে ওয়েব ফিল্ম ‘ফিমেল ৪’ আসছে ওটিটি প্লাটফর্ম বঙ্গ-তে। তার আগে একটি কোমল পানীর বিজ্ঞাপনের জের ধরে সমালোচনার মুখে পড়ে কাজল আরেফিন অমির আসন্ন এই ওয়েব ফিল্ম! কারণ ওই কোমল পানীর বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছেন ‘ফিমেল ৪’ এর দুই অভিনেতা শরাফ আহমেদ জীবন ও শিমুল শর্মা।
এই দুই অভিনেতার কারণে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের একাংশ অমির ‘ফিমেল ৪’ বয়কটেরও আওয়াজ তুলেন। যদিও নির্মাতা বারবারই বলে এসেছেন, ওই বিজ্ঞাপনের সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন তিনি। অনেকে অমির হয়েও যুক্তি তুলে ধরেন। ‘ফিমেল ৪’ বয়কটকারীদের উদ্দেশে কেউ কেউ প্রশ্ন রাখেন, অমির নাটকে কাজ করা অভিনয়শিল্পীরা ব্যক্তিগতভাবে স্বাধীন। তারা কোথায় কাজ করবেন, তার জন্য অমিকে কেন ভুক্তভোগী হতে হবে?
সাধারণ দর্শকের সুরেই এবার বিষয়টি নিয়ে কথা বললেন পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের এডিসি নাজমুল ইসলাম। শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাখালির এসকেএস টাউয়ারের স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘ফিমেল ৪’ এর প্রিমিয়ার শো দেখতে এসে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে নাজমুল বলেন, ‘ফিমেল ৪’ নিয়ে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, বা একটা গ্রুপ কথা বলছে- আমার মনে হয় এই জিনিসটা একেবারেই অনভিপ্রেত। কারণ যে দুজন ওই বিজ্ঞাপনটির সাথে যুক্ত, তারা নিজেরাই ইতোমধ্যে এটার জন্য অনুতপ্ত হয়ে দুঃপ্রকাশ করেছেন। তারা যে ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনে যুক্ত হয়ে ঠিক করেননি, তারা সেটা বুঝতে পেরেছেন।
“বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশের সরকার সামগ্রিকভাবে গাজার পাশে রয়েছে। আমরা সব সময়ই চাই, ফিলিস্তিন একটা স্বাধীন রাষ্ট্র হোক। সেই সমর্থন রাষ্ট্রের আছে, দেশের মানুষের আছে, আমাদের সবারই আছে। সেখানে শুধুমাত্র একটা বিজ্ঞাপন পার্থক্য তৈরী করতে পারে না।”-বলছিলেন এডিসি নাজমুল।
কোমল পানীর বিতর্কিত সেই বিজ্ঞাপনটি নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘ফিমেল-৪’ এর যারা অনুরাগী, দর্শক, কলাকুশলী- তারা সবাই বিশ্বাস করে ফিলিস্তিন আলাদা রাষ্ট্র। সুতরাং আমরা ওই বিজ্ঞাপনটিকে আলাদাভাবে বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি। কারণ ফিলিস্তিন প্রশ্নে বিজ্ঞাপনটি আমাদের বিশ্বাস কি টলাতে পেরেছে? মোটেও না।
এটাকে ইস্যু করে তবে অমির কাজ নিয়ে কেন ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে-এমন প্রশ্ন রেখে আইনের ভাষায় এই সাইবার পুলিশ কর্মকর্তা বলেন,“এখন বিজ্ঞাপনটি যদি বাংলাদেশের আইনকে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করে থাকে, কেউ যদি এমন মনে করেন- তাহলে অবশ্যই তিনি আইনের দ্বারস্থ হতে পারেন। বিজ্ঞাপনের জন্য কেউ নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত মনে করলে তিনি আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু এটাকে ইস্যু করে অমির ব্যক্তিগত জীবন কিংবা তার কোনো প্রডাকশন নিয়ে সাইবার হুমকি দেয়া হয়, তাহলে এটা এক ধরনের ক্রাইম। সাইবার পুলিশ হিসেবে আমি বলতে চাই, এ ধরনের ক্রাইমকে প্রতিরোধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে নাজমুল জানান, অনবরত সাইবার হামলার শিকার হয়ে সংক্ষুব্ধ কেউ যদি আমাদের এখানে অভিযোগ জানান, তবে অবশ্যই আমরা তা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগীকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।









