‘একটি সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার পরিচালক, প্রযোজক, ক্যামেরা পারসন থেকে শুরু করে এফডিসি কেন্দ্রীক অন্যান্য সংগঠনের কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। চলচ্চিত্রের ৫০ বছরের ইতিহাসে এর চাইতে দুঃখজনক, লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে আমরা আর পড়িনি।’
সোমবার সন্ধ্যায় এফডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানালেন এফডিসি কেন্দ্রীক চলচ্চিত্রের সংগঠনগুলোর মুখপাত্র, কিংবদন্তী অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক আলমগীর।
শিল্পী সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে চলচ্চিত্রের অন্যান্য সংগঠনগুলোর সদস্যদের শুক্রবার এফডিসিতে প্রবেশ করতে না দেয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি। আর এজন্য চলচ্চিত্রের ১৭ সংগঠনের আন্দোলনকে সমর্থনও জানান।
তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার একটি সমিতির যে নির্বাচন হয়েছে, সেটা নিয়ে কথা বলতে আসিনি। এফডিসি আমাদের বাড়ি। গত ৫০ বছর ধরে এখানে আমাদের যাতায়াত। অথচ একটি সমিতির নির্বাচনের জন্য আমাদের এখানে আসতে বারণ করা হয়েছে, নিষেধ করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি অনুমতি নিতে, আমি নিজেও চেষ্টা করেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি।’
আর সেই প্রতিবাদেই আন্দোলনে নেমেছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৭টি সংগঠন। রবিবার (৩০ জানুয়ারি) এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এর অপসারণ চেয়ে তার কুশপুতুলে আগুন দিয়েছে চলচ্চিত্র সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মী ও সদস্যরা।
১৭ সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতা জন্যই ১৭ সংগঠনের সদস্যরা শিল্পী সমিতির নির্বাচনের ঢুকতে পারেনি। তাই তারা এই এমডির অপসারণ চান।
এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় আলমগীর বলেন, শুক্রবার চলচ্চিত্রের মানুষদের এফডিসিতে ঢুকতে বারণ করা নিয়ে এমডি যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটা ইউটিউবে দেখেছি। তাতে আমরা সন্তুষ্ট নই। সে কারণেই আমরা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। তার আজকে আমাদের সাথে বসার কথা ছিলো, কিন্তু চট্টগ্রামে তার নিকটএকজনের মা মারা যাওয়াতে জরুরী ভিত্তিতে সেখান যান। তিনি আমাদের সময় দিতে পারেননি। সম্ভবত আগামিকাল আমাদের সাথে বসবেন। আমাদের যে ক্ষোভের কথাগুলো আছে, তাকে সেসব আমরা বলবো। আমি আশা করি, আমরা যা চাইছি তিনি শক্ত পদক্ষেপ নিবেন এবং আমাদের সেই ফলাফলটা দিবেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হয়।
এদিকে সোমবার থেকেই শোনা যায়, এফডিসির বর্তমান এমডির অপসারণ দাবি করে অনেকে তার পরিবর্তে সেই পদে অভিনেতা আলমগীরকে চাইছেন। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের করা এক প্রশ্নে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি এফডিসির এমডি হওয়ার যোগ্যতা রাখি না। আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি না। এফডিসির এমডি হলে সেটা আরো ৫/৭ বছর আগেই হতে পারতাম।’
চলচ্চিত্রের মানুষ যদি এফডিসির পরিচালক হিসেবে থাকে, তাহলে বর্তমান সমস্যাগুলো থাকবে না! অনেকের এমন ভাবনার প্রেক্ষিতে আলমগীর বলেন, ‘আগেও এই পদে চলচ্চিত্রের অনেকেই ছিলেন, কিন্তু তাতে কি আমরা এফডিসি স্বর্ণ দিয়ে বাঁধিয়ে ফেলতে পেরেছিলাম? এজন্যই বলছি, এই পদের জন্য আমিও ফিট না। আমি যে আজ এখানে বসে সমালোচনা করলাম, ওই পদে আমি বসলে তিন বছর পর একই সমালোচনা আমাকে নিয়েও হবে।’







