শেরপুর আদালতের হাজতখানা থেকে পালিয়ে যাওয়া রিমান্ডের আসামী রাজু আহমেদ (২৫) কে ১৫ ঘণ্টা পর গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে শহরের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. খোরশেদ আলম।
এদিকে আসামী পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ৩ পুলিশ সদস্যকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। তারা হলেন-উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল বারি, সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল করিম ও কনস্টেবল মো. আওয়াল।
পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম তিন পুলিশ সদস্যকে কর্তব্যে অবহেলার কারণে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে জেলা জজ আদালত ভবনের নিচতলায় থাকা আদালতের হাজতখানা থেকে জাল টাকার মামলায় ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ২ আসামী কৌশলে পালিয়ে যায়। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা জনতার সহায়তায় তাৎক্ষণিক আসামী শাহিন মিয়া নামে একজনকে আটক করতে পারলেও রাজু আহমেদ পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। অবশেষে বুধবার সকালে ডিবি’ অভিযানে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে রাজু আহমেদ ও তার দুই সহযোগীকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝিনাইগাতী উপজেলার ফুলহারি ও বাকাকুড়া এলাকায় জাল টাকা কেনাকাটা করার সময় হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে আনা হলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পরে তাদেরকে আদালতের হাজতে নেওয়া হয়।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. জিয়াউর রহমান জানান, রিমান্ড শুনানির পর ৩ জনকেই হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পর এক বয়স্ক আসামি আনোয়ার হোসেন বাবু অসুস্থতার কথা জানালে হাজতখানার দরজার তালা খুলে তার সাথে হাজত ইনচার্জ এসআই আব্দুল বারী কথা বলতে গেলে ওই সুযোগে রাজু আহমেদ ও শাহিন নামে দু’জন হাজতখানা থেকে পালিয়ে যায়। জনতার সহায়তায় পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক শাহিনকে আটক করতে পারলেও রাজু আহমেদ পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সদর থানায় পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।









