এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে প্রাথমিক বাছাইপর্বের ম্যাচে কিরগিজস্তানের ক্লাব এফসি মুরাস ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে আবাহনী লিমিটেড ঢাকা। বিরতির পর মুরাসের মিডফিল্ডার আতাই জুমাশেভের দুই গোল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। এ ম্যাচে খেলার কথা ছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের।
ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটে প্রথম ভালো সুযোগ পায় মুরাস ইউনাইটেড, কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারী দল। পরের মিনিটে আল আমিন আবাহনীর পক্ষে ভালো সুযোগ তৈরি করে গোলমুখে মারতে পারেননি। ১০ মিনিটের সময় মুরাসের নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দেন মিতুল মারমা।
এ ম্যাচ দিয়ে আবাহনীতে অভিষেক হয়েছে মালির ফরোয়ার্ড সোলেমান দিয়াবাতের। বাংলাদেশের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার শেখ মোরসালিনেরও অভিষেক হয়েছে আবাহনীর হয়ে। ১৫ মিনিটের সময় শেখ মোরসালিন ও কাজেম শাহ কিরমানি ভালো সুযোগ তৈরি করেন। সেখানে থেকে প্রথম কর্নার আদায় করে নেয় আবাহনী। ১৮ মিনিটে দিয়াবাতের একক নৈপুণ্যে এগিয়ে বল বারের বাইরে মারেন। পরে মুরাসের আরও একটি সুযোগ ঠেকিয়ে দেন মিতুল। ওই মিনিটেই আল আমিনের শট ঠেকিয়ে দেয় মুরাস ডিফেন্ডার।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত দুদল সমানে লড়েছে। ৩০ মিনিটে আল আমিনের থেকে বল পেয়ে দিয়াবাতে দুর্দান্ত প্রচেষ্টা ছিল, সেই বল নিয়ে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ ইব্রাহিম। এরচেয়ে ভালো সুযোগ ম্যাচে তখন পর্যন্ত আসেনি কোন দলের কাছে। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিটে আগে আগেরবারের মতো সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইব্রাহিম।
প্রথমার্ধে নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেছে আবাহনী বেশি। এসময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও বেশি ছিল বাংলাদেশের ক্লাবটির কাছে। মুরাস ইউনাইটেডের ভালো কিছু আক্রমণ ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন জাতীয় দলের গোলকিপার মিতুল মারমা। প্রথমার্ধে গোলশূন্য বিরতিতে যায় দুদল।
বিরতি থেকে ফিরে নিজেদের আর ধরে রাখতে পারেনি আবাহনী। ৪৭ মিনিটে মুরাসের হয়ে প্রথম গোল করেন মিডফিল্ডার আতাই জুমাশেভ, ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মুরাস। চার মিনিট পর আলীগুলাভ মাসকাতের নেয়া শট বারে লেগে বাইরে চলে যায়, গোলবঞ্চিত হয় কিরগিজস্তানের দলটি। কিছুক্ষণ ম্যাড়মেড়ে খেলা চলতে থাকে। এ সময় হলুদ কার্ড দেখেন মিরাজুল ইসলাম।
৭২ মিনিটে স্বাগতিকরা সমতায় আসার সুযোগ তৈরি করলেও মুরাস গোলকিপারের দৃঢ়তায় বেঁচে যায়। ম্যাচের পরবর্তী সময়ে আর কোন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি আবাহনী। যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে আবাহনীর ভুলের সুযোগে জুমাশেভের আরেকটি গোল করেন। ২-০ গোলের হার নিয়ে বিদায় নিতে হল আবাহনীকে।









