গণভোটের কথা শোনেননি এমন কেউ আছেন? নেই সম্ভবত। কিন্তু আপনি কি জানেন, গণভোট কী? কেন হয়? দেশে এর আগে কতবার গণভোট হয়েছিল? কী বিষয়ে নেওয়া হয়েছিল সেসব গণভোট? আর এবারের গণভোট একটু জটিল কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক গণভোটের এ টু জেড।
সরকার বা রাজনীতিবিদরা যখন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অপারগ হন, তখন জনগণের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে গণভোট বলা হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়। ইংরেজিতে এটিকে বলা হয় রেফারেন্ডাম।
বাংলাদেশে এর আগে ৩ বার গণভোট হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণভোট দেন। সেই বছরের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা আছে কি না- এমন প্রশ্নে হ্যাঁ/না ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত জানতে ওই গণভোট আয়োজন করা হয়েছিল। সেই গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হওয়ায় জিয়াউর রহমানের শাসনকাজ বৈধতা পেয়েছিল।
দ্বিতীয় গণভোট হয়েছিল ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ, সামরিক শাসক জেনারেল এরশাদের সময়। সেবার এইচ এম এরশাদের নীতি ও কর্মসূচি এবং স্থগিত সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ওপর জনগণের আস্থা আছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য গণভোটের আয়োজন হয়েছিল। সেই গণভোটে ভোট পড়েছিল ৭২ দশমিক ২ শতাংশ। সেসময় বিপুল ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছিল।
তৃতীয়বার গণভোট হয় ১৯৯১ সালে। সেসময় বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। এরশাদবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ‘তিন জোটের রূপরেখা’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে গৃহীত সংসদীয় পদ্ধতির সরকার প্রতিষ্ঠার পর সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকা বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ সম্মতি দেবেন কি না, সেই প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেবারও বিপুল ভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়।
এবারের গণভোট হবে দেশের ইতিহাসে চতুর্থ। তবে আসন্ন গণভোটকে একটু জটিলই বলা যায়। আগের প্রত্যেকবার একটি প্রশ্নের উপর হ্যাঁ-না ভোট হয়েছিল। কিন্তু এবার চারটি প্রশ্নের উপর একটি হ্যাঁ-না ভোট হবে। এটি নিয়ে রাজনীতিবিদদের মধ্য মতভেদ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ঐকমত্য কমিশনে বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট রাখা হয়নি। সেটি নিয়েও মতানৈক্য রয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের গণভোটের ফলাফল এবং পরবর্তীতে ক্ষমতায় আসা সরকার সেটিকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে সেটিই দেখার বিষয়।








