একসময় খাসিয়া পুঞ্জী মানেই ছিল নিসর্গের কোলে কয়েক ঘণ্টার ঘোরাঘুরি—সবুজ পাহাড়, পানঝুমের বাগান আর শান্ত-নির্জন আদিবাসী জীবন দেখেই ফিরে আসত পর্যটকরা। কিন্তু সময় বদলেছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশনের যৌথ উদ্যোগে খাসিয়া পুঞ্জীতেই তৈরি হয়েছে থাকা ও খাওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা। ফলে পর্যটকরা আর শুধু ঘুরে দেখেই নয়, আদিবাসী সংস্কৃতি, জীবনযাপন ও প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে খাসিয়া পুঞ্জীকে অনুভব করার সুযোগ পাচ্ছেন নতুন রূপে, নতুন অভিজ্ঞতায়।
সিলেট জাফলং কোলঘেষে পিয়াইন নদী পার হয়ে আমরা যাই খাসিয়া পুঞ্জীতে।
সরু পথ ধরে এগুতেই দেখা মিলে খাসিয়া অঞ্চলের ছোট ছোট উঁচু খুঁটির উপর দাড়িয়ে থাকা ঘর গুলো।
এরমধ্যে প্রাথমিক ভাবে পর্যটকদের জন্য করা হয়েছি ৪টি হোম স্টে ব্যবস্থা। মনোরম পরিবেশে স্বল্প খরচেই রাত্রিযাপনের মাধ্যমে খাসিয়া পুঞ্জীর সংস্কৃতি উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা। শুধু তাই নয় আছে স্বল্পমূল্যে বাঙ্গালি খাবার ও খাসিয়াদের ঐতিহ্যবাহী হালাল খাবারের ব্যবস্থা।
খাসিয়া পুঞ্জীতে রাত্রিযাপনের জন্য বাংলাদেশ ট্যূরিজম বোর্ড ও আন্তর্জাতিক লেবার অর্গানাইজেশনের রিকমন্ডেড ট্যূরিষ্ট রা থাকতে পারবেন বলে জানান খাসিয়া প্রধান ওয়েলকাম লিম্বা।
খাসিয়া পুঞ্জীর সংস্কৃতি দেখতে রয়েছে ১২ জন ট্যূর গাইড। তারা আপনাকে দেখাবে খাসিয়াদের সংস্কৃতি এবং তাদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। পর্যটকদের দেখার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে খাসিয়াদের ব্যবহৃত পুরোনো ও বর্তমান সরঞ্জাম গুলোও
জাফলং খাসিয়া পল্লীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিষয় হলো পানের বরজ । সারি সারি পানগাছ আর গাছে গাছে পান চাষের যত্নের ছাপ দেখলেই বোঝা যায় পানের প্রতি তাদের নিবেদন কতটা গভীর।
শুধু তাই নয় খাসিয়া পল্লীর পাশেই রয়েছে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় চা–বাগানগুলোর একটি।
আছে মেঘালয়ের পাদদেশে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য বিশেষ জায়গা।
এছাড়াও পর্যটক রা চাইলেই উপভোগ করতে পারবেন খাসিয়াদের আঞ্চলিক ভাষায় সাংস্কৃতিক পর্ব।
খাসিয়া পুঞ্জীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ভাবে লাভবান করার জন্য কমিউনিটি বেজড ট্যূরিজম চালু করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ট্যূরিজম বোর্ড।
পাশাপাশি খাসিয়া সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি জানতে পর্যটকদের কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাঁরা।
জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, বন – নদী পাহাড়ের অসামান্য সম্পদকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই পর্যটন উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বকীয়তা বজায় রেখে ইতিমধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। এই উদ্যোগের ফলে জাফলং কেবলমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পর্যটন কেন্দ্র নয় বরং অভিজ্ঞতামূলক, সংস্কৃতিভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে নতুন পরিচয় লাভ করেছে।








