যে আকাঙ্খা নিয়ে ছাত্র-জনতা বাংলাদেশে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে তাকে বাস্তবে রুপ দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে নতুনভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে আজ শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় ৯টার পর দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস ও অর্থপাচারের মতো ঘটনাগুলো রাষ্ট্রকাঠামোকে যেভাবে ধ্বংস করেছিল সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য।
ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম ভাষণ।
বাংলায় দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের ভাষণে প্রথমেই প্রফেসর ইউনূস গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের কারণে জাতিসংঘের এমন মঞ্চে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থিত হতে পেরেছেন। তার এ যাত্রায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে সাথে চান ড. ইউনূস।
আগের সরকারের অনিয়ম-দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে বিশ্ববাসীকে প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি এমন সমাজ গড়তে চান যেখানে বাক স্বাধীনতা থাকবে, থাকবে ভোটাধিকার থাকবে না ভয়ের রাজনীতি।
বিশ্বকে দারিদ্রমুক্ত করতে ড. ইউনূস তার ‘তিন শূন্য’ তত্ত্ব তুলে ধরেন বিশ্বনেতাদের সামনে। ভোগবাদী ধারণা থেকে বেরিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য সামাজিক ব্যবসার কথাও উল্লেখ করেন। চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হতে বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান। রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সহযোগিতা করবে বলে প্রত্যাশা করেন ডক্টর ইউনূস।
একই সঙ্গে ফিলিস্তিনে হামলা বন্ধ করে দ্রুততম সময়ে যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান শান্তিতে নোবেল জয়ী এই সরকার প্রধান।
ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা শুধু বাংলাদেশ প্রসঙ্গই নয়, তুলে ধরেছেন বৈশ্বিক নানা সংকট। ফিলিস্তিনে গণহত্যা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অভিবাসনের মতো বিষয় উঠে এসেছে এই শান্তি নোবেলজয়ীর ভাষণে। বিশ্বের সামগ্রিক উন্নয়নে জোর দিয়েছেন উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন একতার ওপর।








