ঢাকায় আগামী ২৫-২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইন সাউথ এশিয়া: হোয়্যার ডু উই স্ট্যান্ড’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স। যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন এবং আইওএম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার গুলশানে সিক্স সিজন্স হোটেলে অনুষ্ঠিতব্য ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স উপলক্ষ্যে ডিআরউ-সাগর-রুনি মিলনায়তনে “মিট দ্যা প্রেস” অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের ২৫% এর বেশি জনসংখ্যার আবাসন এই অঞ্চল।
তারা বলেন, অন্যান্য ভূখণ্ডের তুলনায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হলেও এখানকার বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার মাত্র ৬% এর নিচে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা নিয়ে জর্জরিত থাকায় এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধির বৃদ্ধির হার কম বলে ধারণা করা হয়। এই সমস্যা সমাধানে বিশ্লেষণ এবং সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, পাবলিক সেক্টর ডেভেলপমেন্ট এজেন্সিগুলোর পক্ষে এককভাবে এত বড় টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সামগ্রিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছে। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় অংশীজন ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিখাতের অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই এই উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব। এই সংক্রান্ত বিশ্লেষণ এবং সংলাপের লক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
মিট দ্যা প্রেসে আয়োজকদের পক্ষে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনের প্রেসিডেন্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাব্যামা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. আখলাক হক, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রেসিডেন্ট ড. মো. শরিফুল আলম প্রমূখ বক্তব্য রাখেন এবং প্রশ্নের উত্তর দেন।
বক্তারা বলেন, এই কনফারেন্সের প্রধান উদ্দেশ্য হল দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা। সেই সাথে এই অঞ্চলের অগ্রগতির জন্য টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়নে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার ধারণাকে অন্তর্ভুক্ত করবে এই কনফারেন্স।
আলোচনার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত বর্তমান অবস্থার একটি সাধারণ চিত্র পাওয়া যাবে এই কনফারেন্সে যা অ্যাডভোকেসি এবং গবেষণা সংস্থাগুলো তাদের কাজের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ইনফরমেশন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।
কনফারেন্সে বাংলাদেশসহ ১৫ টি দেশের এবং ৯০ টি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০ জন একাডেমিক ও স্কলার অংশগ্রহণ করবেন এবং সাস্টেইনেবেল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরবেন। জাতীয় পর্যায়ের গবেষকদের পাশাপাশি ৪০ জন বিদেশি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন এ কনফারেন্সে।
এই কনফারেন্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর নিয়াজ আহমেদ খান। ওয়েস্টার্ন সিডনী ইউনিভার্সিটির এমিরিটাস প্রফেসর আনিস চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। কনফারেন্সে সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বিশ্ববিদ্যালয় মন্জরী কমিশনের চেয়ারপারসন প্রফেসর এসএমএ ফায়েজ।
উল্লেখ্য তিন দিনব্যাপী এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে যে সকল বিষয়ে আলোচনা হবে তার মধ্যে অন্যতম হলো, ‘ইফেকটিভ ইন্সটিটিউশন এন্ড একাউন্টেবল গভার্নেন্স’, ‘ইকুয়ালিটি, ডাইভারসিটি, ইনক্লুশন এন্ড সোশ্যাল জাস্টিস’।বক্তারা সম্মিলিত প্রচেষ্টার এ উদ্যোগকে সফল করার জন্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা আশা করেন।









