মা—এই শব্দটি এক গভীর আবেগ, এক অন্তহীন অনুভূতির নাম! পৃথিবীর সব ভাষা, সব সংস্কৃতি, সব ধর্মের মানুষের জীবনে ‘মা’ একটি সাধারণ অথচ গভীর অর্থবহ সত্তা। নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সীমাহীন সহনশীলতা, অন্তহীন ত্যাগ আর প্রতিদিনকার ছোট ছোট লড়াইয়ের প্রতীক ‘মা’।
মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় মা দিবস। এবারের মা দিবস ১১ মে। মাকে নিয়ে পৃথিবীতে লেখা হয়েছে অসংখ্য গল্প কবিতা উপন্যাস। বিশ্বের সব ভাষায় রচিত হয়েছে অসংখ্য গান। দেশে দেশে নির্মিত হয়েছে অগণিত সিনেমা। রূপালি পর্দায় মায়ের প্রতিচ্ছবি নানা রঙে, নানা ছন্দে উঠে এসেছে। কখনো তিনি একজন একলা যোদ্ধা, কখনো নিঃশব্দ স্নেহের প্রতিমূর্তি, আবার কখনো সাহসী অভিভাবক। নিচে বিদেশি কয়েকটি সিনেমার আলোকে দেখা যাক মায়ের উপস্থিতি কীভাবে সিনেমাকে করেছে হৃদয়স্পর্শী, গভীর এবং কালজয়ী।
রবিবার বিশ্ব মা দিবসের বিশেষ এই দিনটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে মাকে নিয়ে দেখতে ফেলতে পারেন অন্তত একটি সিনেমা-
রুম (২০১৫, ইংরেজি)
বন্দিত্বের ভেতরেও মা তার ছেলেকে স্বাধীন মনে তৈরি করেন, ভেতর থেকে শক্তিশালী মানুষ করে তোলেন। ব্রি লারসনের অস্কারজয়ী পারফরম্যান্স আমাদের জানিয়ে দেয়, মাতৃত্ব কেবল জন্মদানের নাম নয়—তা আশ্রয়, সাহস আর স্বপ্নেরও নাম।
মাদার (২০০৯, দক্ষিণ কোরিয়া)
বং জুন-হো পরিচালিত এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারে এক মা নিজের সন্তানের জন্য যা করতে পারেন—তা আমাদের রীতিমতো নাড়িয়ে দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ার এই থ্রিলারে এক মা তার ছেলে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর এককভাবে তদন্তে নামে। এক মা কতটা দূর যেতে পারেন তার সন্তানের জন্য—এই প্রশ্ন নিয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর চলচ্চিত্র।
লেডি বার্ড (২০১৭)
এক কিশোরী ও তার দৃঢ়চেতা মায়ের টানাপড়েন, ঝগড়া-ভালোবাসায় ভরা সম্পর্ক। প্রতিটি দৃশ্যে উঠে আসে মা-মেয়ের এক জটিল অথচ গভীর প্রেম। সাওয়ার্স রোনান ও লরি ম্যাটক্যাফ অভিনীত চলচ্চিত্রটি একটি কিশোরীর আত্মপরিচয় খোঁজার গল্প নিয়ে এগিয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বেশি এটি এক মা-মেয়ের সম্পর্কের জটিলতা ও উষ্ণতার গল্প। এই মায়ের ভালোবাসা কখনো কঠোর, কখনো নরম—তবে সবসময়ই গভীর।
ভলভের (২০০৬, স্পেন)
পেদ্রো আলমোডোভারের রঙিন ক্যামেরায় মায়েরা হয়ে ওঠেন রহস্য, রক্তমাংসের মানুষ এবং অতীতের গল্পগাথা। এখানে মা শুধু যত্নের নয়, প্রতিশোধেরও নাম। পেনেলোপে ক্রুজের চরিত্রে মাতৃত্বের এক নতুন রূপ।
স্টেপমম (১৯৯৮)
একদিকে মৃত্যুর মুখোমুখি মা, অন্যদিকে নতুন মায়ের আগমন—এই চলচ্চিত্রে মাতৃত্বের পরিধি শুধু রক্ত নয়, ভালোবাসার ক্ষেত্রেও কত বিস্তৃত হতে পারে তা অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়। জুলিয়া রবার্টস ও সুসান সারান্ডনের শক্তিশালী অভিনয়ে গড়া এই সিনেমাটি দেখায় কীভাবে ভালোবাসা ও দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নিতে হয়, বিশেষ করে যখন পরিবার বদলে যায়।
রিয়েল উইমেন হ্যাভ কার্ভস (২০০২)
এক মেক্সিকান-আমেরিকান কিশোরী ও তার মায়ের মধ্যকার সংস্কার বনাম আধুনিকতার দ্বন্দ্ব— মায়ের ‘শাসন’ কখনো অবাঞ্ছিত মনে হলেও এর পেছনে যে ভয়, ভালোবাসা ও অভিজ্ঞতা কাজ করে, তা সিনেমাটি স্পষ্টভাবে দেখায়। একটি শক্তিশালী মাতৃত্বের প্রতিচ্ছবি।
আনাক (২০০০)
একজন ফিলিপিনো মা বিদেশে গৃহকর্মী হয়ে যান সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায়। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি পেয়ে যান দূরত্ব, অপমান ও ভুল বোঝাবুঝি। বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে গড়া এই সিনেমাটি হাজারো প্রবাসী মায়ের গল্প।
টোকিও সোনাটা (২০০৮)
বাবার চাকরি হারানোর পর এক মায়ের অদৃশ্য অথচ অমূল্য সংগ্রাম— মা এখানে নীরব অথচ দৃঢ় এক নারী চরিত্র। জাপানের এক মধ্যবিত্ত পরিবার ধসে পড়ছে। মা চরিত্রটি নীরবে সবকিছু ধরে রাখার চেষ্টা করেন, যেন পরিবারের উপর ভাঙনের ছায়া না পড়ে। এই সিনেমা দেখায়, পরিবারের ভার কতখানি একা বইতে হয় মাকে—যদিও তাকে কেউ স্বীকৃতি দেয় না।
এভরিথিং এভরিহোয়্যার অল অ্যাট ওয়ান্স (২০২২)
মহাবিশ্বের নানা রূপে নিজের পরিচয়, সম্পর্ক ও ভালোবাসাকে খোঁজার গল্প। এক মা নিজের মেয়ের সঙ্গে হারানো সম্পর্ক ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি ‘ইউনিভার্স’ ঘুরে বেড়ান। এই ছবি মাতৃত্বকে শুধু দৈনন্দিন নয়, কল্পনার সীমায়ও বিস্তৃত করে। বিশাল ক্যানভাবে নির্মিত সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। –ট্যাটলার এশিয়া









