স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রে সন্দেহাতীতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নাম হাবিবুর রহমান। কালজয়ী ও ভিন্নধারার বেশকিছু সিনেমার প্রযোজক তিনি। ১৯৭২ সালে ১৬ জুলাই কিংবদন্তী নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। দুই বছর আগে চলচ্চিত্রে তার ৫০ বছর পূর্ণ হয়!
সেই কালজয়ী প্রযোজকের ৮০ তম জন্মদিন বুধবার (২৭ নভেম্বর)। শুধু ‘তিতাস একটি নদীর নাম’-ই নয়, পরবর্তী সময়ে তিনি প্রযোজনা করেন পদ্মা নদীর মাঝি, হঠাৎ বৃষ্টি, মনের মানুষ, শঙ্খচিলসহ আরো বহু কালজয়ী ছবি। তার বরাবরই লক্ষ্য ছিল সাহিত্যনির্ভর বা শিল্পশোভন চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে।
হাবিবুর রহমান দুটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। একটি হলো আশীর্বাদ চলচ্চিত্র। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানটি শুধু যে শিল্পশোভন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছে তা নয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র পরিবেশিতও হয়েছে। এর মধ্যে গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ ছবির নাম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া তিনি ছবির কাজের জন্য ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাইতেই একত্রিত করেন একঝাঁক মেধাবী তরুণকে। ছবির পেছনে নানা ভূমিকায় কাজ করেন ফখরুল হাসান বৈরাগী, তমিজ উদ্দীন রিজভী, আখন্দ সানোয়ার মোরশেদ, শমশের আহমেদ, আওলাদ হোসেন চাকলাদার, এ জে মিন্টু ও ছটকু আহমেদ। এরপর তিনি গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘শাওন সাগর লিমিটেড’। সাতজন ছিলেন এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক।
ছেলেবেলা থেকেই প্রচণ্ড ডানপিটে এই মানুষটির জন্ম বিক্রমপুরে হলেও শৈশব কেটেছে নারায়ণগঞ্জে। সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম তার। বেশ আয়েশেই কেটেছে ছেলেবেলা। তার ছেলেবেলা ছিল আনন্দময়। নানা ছিলেন ধনবান। সেই ধারাবাহিকতায় তিনিও কম যাননি।
চলচ্চিত্রের প্রতি ছিল অগাধ প্রেম। সেই প্রেম থেকেই তিনি চলচ্চিত্রকে মনে প্রাণে ভালোবেসেছিলেন। সেই ভালোবাসা থেকেই তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘আশীর্বাদ’ থেকে একে একে তৈরি হয়েছে ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘শঙ্খচিল’, ‘মনের মানুষ’ -এর মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্র।
তার ৮০তম জন্মদিনে চ্যানেল আইয়ে থাকছে বিশেষ আয়োজন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে চ্যানেল আইয়ের বিশেষ ‘তারকা কথন’ অনুষ্ঠানে উদযাপন হবে তার ৮০তম জন্মদিন। এদিন তাকে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত থাকবেন আবুল হায়াত, মামুনুর রশীদ, ছটকু আহমেদ, শবনম ফেরদৌসী এবং হাবিবুর রহমান খানের দুই পুত্র ও কন্যা।









