আন্তর্জাতিক

ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি অনাহারে আরও ৮০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

ফিলিস্তিনি শিশুর কান্না, আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার সময়. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আহত ফিলিস্তিনি শিশু হাসপাতালে নেওয়ার সময় কান্না করছে, আহত অবস্থায়।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮০ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এসবের মধ্যে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে দুই শিশুসহ কমপক্ষে ১৪ জন ফিলিস্তিনি রয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

সোমবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপুষ্টিতে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা ১৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে ৮৮ জন শিশুও রয়েছে।

ইসরায়েলের মানবিক সাহায্য প্রবেশের উপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই অঞ্চলে ক্ষুধা সংকট দেখা দেওয়ায় বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মার্চ মাসে ইসরায়েল এই অঞ্চলে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করে, যা মে মাসে আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু জাতিসংঘ এবং সাহায্য সংস্থাগুলোর ব্যাপক দুর্ভিক্ষের সতর্কতা সত্ত্বেও, তখন থেকে সামান্য পরিমাণে সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা, ইউএনআরডব্লিউএ-এর প্রধান, সোমবার বলেছেন, গাজায় অবস্থিত তার কর্মীরা অনাহার সংকটে থাকা মানুষকে জীবিতও নয়, মৃতও নয় – হাঁটা লাশ” হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের উপর জাতিসংঘের এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেছেন, যা ঘটছে তার জন্য ক্ষোভ এবং নিন্দার শব্দ আর যথেষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত যুদ্ধবিরতি আরোপের জন্য, তীব্রতর অনাহার প্রত্যাহার করার জন্য এবং প্রতিটি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে… একবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে, ইউএনআরডব্লিউএ-এর বৃহৎ কর্মীবাহিনীর মাধ্যমে মানবিক সহায়তার ব্যাপক বৃদ্ধি সম্ভব হতে পারে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে রোববার বলেছিলেন, গাজায় কোনও অনাহার নেই এবং গাজা শাসনকারী ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে, সোমবার এক্স-তে একটি পোস্টে নেতানিয়াহু গাজার পরিস্থিতিকে কঠিন বলে বর্ণনা করে বলেছেন, অবরুদ্ধ উপত্যকায় ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েল কাজ করছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজায় প্রকৃত দুর্ভিক্ষের লক্ষণ রয়েছে। স্কটল্যান্ড সফরের সময় তিনি বলেছেন, গাজায় অনেক ক্ষুধার্ত মানুষ রয়েছে। আমরা সেখানে খাদ্য কেন্দ্র স্থাপন করতে যাচ্ছি, যেখানে প্রবেশাধিকার সহজ করার জন্য কোনও বেড়া বা সীমানা থাকবে না, ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশের সাথে কাজ করবে গাজার জনগণকে খাদ্য ও স্যানিটেশনসহ আরও মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য।

বিষয়:অনাহারে মৃত্যুঅবরুদ্ধ গাজা উপত্যকাইসরায়েলি হামলাফিলিস্তিনি
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…