২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে ৭ লাখ ৫০ হাজার কর্মী গেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি একক দেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি কর্মী প্রেরণের রেকর্ড।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে সৌদি আরবই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। বিদেশে গমনকারী মোট ১১ লাখেরও বেশি কর্মীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সৌদি আরবকে তাদের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাস ও কর্মরত বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। তারা প্রতি বছর বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিএমইটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আশরাফ হোসেন বলেন, “গত বছর ৭ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি অভিবাসী সৌদি আরবে গেছেন। এখন পর্যন্ত এক বছরে সৌদি আরব বা অন্য কোনো দেশে এত সংখ্যক কর্মী পাঠানো বাংলাদেশের জন্য সর্বোচ্চ।”
তিনি জানান, সৌদি শ্রমবাজারে কর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ২০২৩ সালে বাংলাদেশে দক্ষতা যাচাই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর ফলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশে সৌদি অনুমোদিত সার্টিফিকেশন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও বেশি প্রার্থী যাচাই করতে পারছে।
আশরাফ হোসেন বলেন, “আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ, দক্ষ ও নিয়মিত অভিবাসন বৃদ্ধি করা। গত বছরে সৌদি আরবে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। সৌদি আরবে যাওয়া অভিবাসীদের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সৌদি সংস্থা তাকামল-এর দক্ষতা যাচাই কর্মসূচির আওতায় যাচাই হয়েছেন।”
তিনি আরও জানান, “মাত্র তিন-চার মাস আগে আমরা প্রতি মাসে প্রায় ১,০০০ দক্ষ কর্মী সার্টিফাই করতে পারতাম। এখন সারা দেশে ২৮টি সৌদি-অনুমোদিত কেন্দ্রের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৬০,০০০ দক্ষ কর্মী সার্টিফাই করার সক্ষমতা অর্জন করেছি।” এ বছর থেকেই বিএমইটি নতুন খাতে প্রশিক্ষণ প্রদান শুরু করেছে। সৌদি আরবে খনি খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা বিবেচনায় বাংলাদেশ ওই খাতে জনশক্তি পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
আশরাফ হোসেন বলেন, “তেলসমৃদ্ধ দেশ হওয়ায় সৌদি আরবে দক্ষ খনি শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা সৌদি শ্রমবাজারের জন্য প্রকৃত অর্থে দক্ষ কর্মী তৈরির চেষ্টা করছি এবং এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”









