বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরে ঝড়ো হাওয়ার কবলে কক্সবাজার উপকূলে ৬টি ফিশিং ট্রলার ডুবে গেছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও সাগর থেকে ফিরে আসেনি কক্সবাজারের ৬৪ মাঝি-মাল্লাসহ ৩টি ট্রলার। তবে রাতে ও সকালে ফিরেছে ১০টি ট্রলার।
শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ রয়েছে। এছাড়া অব্যাহত রয়েছে বর্ষণও।
জানা যায়, সাগর উপকূলের লাবণী চ্যানেলে এফবি রশিদা নামের একটি এবং সাগরের ইনানী পয়েন্টে ৫টি ফিশিং ট্রলারডুবির ঘটমা ঘটেছে। এতে এসব ট্রলারে থাকা মাঝি-মাল্লারা কুলে উঠতে পারলেও ৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। এছাড়া মোহাস্মদ জামাল (৩৭) ও নুরুল আমিন নামে দুই জেলে সাগরে ডুবে মারা গেছেন। তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জামালের বাড়ি চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা এবং নুরুল আমিনের বাড়ি বাশখালী এলাকায়।
শনিবার সকালে কক্সবাজার শহরের নাজিরার টেক পয়েন্ট থেকে স্থানীয়রা একজনের লাশ উদ্ধার করেছে। তবে তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের এক নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আক্তার কামাল।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর এবং বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লাবণী চ্যানেল ও ইনানী পয়েন্টে ঝড়ো বাতাসের কবলে পড়ে ৬টি ট্রলার ডুবে যায়। পরে এসব ট্রলার ভেসে গিয়ে সমুদ্র সৈকতের কলাতলীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে ভেসে উঠে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (পর্যটন সেল) তানভির হোসেন ও ইনানী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ।
সি-সেইফ লাইফগার্ড কর্মীদের ইনচার্জ ওসমান গণি জানান, দায়ত্বি পালনের সময় লাইফগার্ড কর্মীরা একটি ট্রলার ভেসে আসতে দেখে। পরে কাছে গিয়ে ভাসমান জেলেদের কুলে তুলে আনেন।
এদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার অর্ধশত গ্রামের মানুষ পানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাকখালী ও মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শহর ও গ্রামে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দারা মারাত্মক দুর্ভোগে রয়েছে। কক্সবাজার শহরের হোটেল হোটেল জোনে সাময়িক জলবদ্ধতার কারণে পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলার ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, সাগর উত্থাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার রাত পর্যন্ত ৬৫টি ট্রলারের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তবে শনিবার সকালে সবগুলো ট্রলার ফিরে আসার খবর পাওয়া গেলেও কক্সবাজার সদর এলাকার তিনটি মাছ ধরার ট্রলার ৬৪ মাঝিমাল্লা নিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। তাদের উদ্ধারের জন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, শনিবার উদ্ধার হওয়া জেলের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। তবে তার ধারণা এটি চট্টগ্রামের বাঁশখালী এলাকার হতে পারে।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরের শ্রেষ্ঠ নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর এখনো উত্তাল রয়েছে, কক্সবাজার চট্টগ্রাম মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে দেওয়া তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত রয়েছে।
সাগরে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। সাগরে অবস্থান করা সকল ধরনের মাছ ধরার ট্রলারকে নিরাপদে চলে আসতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। গত ২৪ ঘন্টায় ২৬২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করেছে কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস।









