বাংলা চলচ্চিত্রকে যারা একইসঙ্গে অভিনয়, নির্মাণ ও প্রযোজনা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন তাদেরই একজন নায়ক আলমগীর। কয়েক দশক ধরে অসাধারণ অভিনয় সত্তায় মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। জুটি বেঁধেছেন শাবানা, ববিতা, কবরীসহ আরও অনেক অভিনেত্রীর সঙ্গে। সবক্ষেত্রেই নিজের সেরাটা দিয়েছেন ক্যামেরার সামনে।
জুন এই নায়কের জীবনের একটি বিশেষ ঘটনা। ১৯৭২ সালের জুনেই দেশের চিরসবুজ এই নায়ক প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। সে কারণে এই মাসটি আলমগীর ভক্ত এবং বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির জন্য বিশেষ! অভিনয় জীবনের ৫২ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে এই নায়ক ঝাঁপি খুলবেন অনেক অজানা গল্পের।
সাংবাদিক-সঞ্চালক আবদুর রহমান-এর সঙ্গে তার বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র জীবনের নানান গল্প উঠে আসবে ‘আলমগীর একজনই’ নামের অনুষ্ঠানে। আবদুর রহমান-এর পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি চ্যানেল আইতে প্রচার হবে শুক্রবার (২৮ জুন) রাত ৭টা ৫০ মিনিটে।
মাত্র ২২ বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন আলমগীর। বাকি ৫২ বছর ধরে চলচ্চিত্রের সাথেই আছেন। জীবনের সিংহভাগ সময় অভিনয়কে দেয়ার পরও নায়ক আলমগীরের নিজেকে নিয়ে মন্তব্য, ‘এখনো সুঅভিনেতা হতে পারিনি। কারণ শিল্পী হওয়া এত সহজ নয়। অভিনয়ে পূর্ণমান ১০০-তে নিজেকে পাস মার্কস দিতে রাজি; এর বেশি নয়’।
১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল কিংবদন্তীতুল্য গুণী এ অভিনেতা জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া ছিলেন ঢালিউডের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর অন্যতম প্রযোজক।
১৯৮৫ সালে ‘মা ও ছেলে’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন এ নায়ক। বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে ৯ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ আজীবন সম্মাননা পদক পাওয়ার রেকর্ড নায়ক আলমগীরেরই রয়েছে।
কেবল অভিনেতা হিসেবে নয়, পরিচালক হিসেবেও পরিচিত তিনি। ১৯৮৬ সালে তিনি প্রথম ‘নিষ্পাপ’ নামের একটি সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার নির্মিত সর্বশেষ সিনেমা হচ্ছে ‘একটি সিনেমার গল্প’।









