আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ভোট দিতে চান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান ৩০ দশমিক ৩০ শতাংশ মানুষ। পাশাপাশি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে চান ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ মানুষ।
ইনোভিশন কনসালটিং নামে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার মাঠপর্যায়ের সেপ্টেম্বর মাসের জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। আগামী নির্বাচন নিয়ে দেশের সব জেলায় ১০ হাজার ৪১৩ জন মানুষের ওপর জরিপ চালায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভিশন কনসাল্টিং।
বুধবার বাংলাদেশ ন্যাশনাল আর্কাইভসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল প্রকাশ করে ইনোভিশন কনসাল্টিং প্রকাশ করেছে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে’-এর রাউন্ড ২-এর দ্বিতীয় অংশের ফলাফল।
সংস্থাটি জানায়, ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ নিয়ে দ্বিতীয় দফার দ্বিতীয় পর্বের জরিপের ফল এটি। এতে অংশ নেন ১০ হাজার ৪১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৫ শতাংশ শহরের ও ৩০ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রামের ভোটার। ৬৪ জেলায় ৫২১টি প্রাইমারি স্যাম্পলিং ইউনিটে জরিপটি চালানো হয়।
জরিপের তথ্যে দেখা যায়, মোট ৪১.৩০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দেবার পক্ষে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩০.৩০ ভাগ অর্থাৎ প্রায় এগারো শতাংশ কম।
আগামীতে সরকার গঠনের জন্য যোগ্যতম দল হিসেবে বিএনপিকে বিবেচনা করছে ৩৯.১ ভাগ মানুষ। এ বিষয়ে জামায়াতের পক্ষে ২৮.১ ভাগ মানুষ আর এনসিপিকে যোগ্য মনে করছে ৪.৯ ভাগ।
যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে বিএনপির ভোট বেড়ে হতে পারে সাড়ে পঁয়তাল্লিশ শতাংশে আর জামায়াতের ভোট বেড়ে হবে সাড়ে তেত্রিশ ভাগ। তবে ভোটে থাকলে আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে চান ১৮ শতাংশের বেশি মানুষ।
জরিপের তথ্য বলছে, ষাটোর্ধরা বিএনপিকে বেশি ভোট দিতে চান। সংখ্যায় ৪৮.৬ ভাগ, জামায়াতের ক্ষেত্রে যা সাড়ে ছাব্বিশ ভাগ। আর যাদের বয়স ১৮ থেকে আটাশের মাঝে তাদের মাঝে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেশি।
দলগুলোর জনপ্রিয়তায় আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ অসন্তুষ্টি (৩৩.৪৩%) ও সর্বনিম্ন উচ্চ সন্তুষ্টি (১৫.৫২%) পেয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী সর্বোচ্চ উচ্চ সন্তুষ্টি (৩০.৩৪%) অর্জন করেছে, যদিও এর অসন্তুষ্টিও কম নয় (১৯.৭৪%)। বিএনপি ২১.৫ শতাংশ উচ্চ সন্তুষ্টি ও ২৭.৬ শতাংশ অসন্তুষ্টি পেয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ মনে করেন দলটিকে সুযোগ দেয়া উচিত। তবে ৪৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আগে বিচার হওয়া দরকার। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বড় অংশ আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৭.৫ শতাংশ ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকেও (৫৪.৬%) তারা বড় অগ্রাধিকার দিয়েছেন। দুর্নীতি হ্রাস এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কারের দাবি আগের তুলনায় বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বেশিরভাগ উত্তরদাতা ভারত (৭২.২%) ও পাকিস্তানের (৬৯%) সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি আগ্রহ কম, ভারতের প্রতি সমর্থন বেশি দেখা গেছে।
পরবর্তী সরকার গঠনের উপযুক্ত দল হিসেবে বিএনপিকে বেছে নিয়েছেন ৩৯.১ শতাংশ উত্তরদাতা, জামায়াতে ইসলামীকে ২৮.১ শতাংশ।
ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভিশন কনসাল্টিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রুবাইয়াত সরওয়ার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ এম শাহান, ভয়েস ফর রিফর্ম-এর সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর, বিআরএআইএন -এর নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান।
ইনোভিশন জানিয়েছে, পিপলস পারসেপশনস অন ইলেকশন সার্ভে একটি সামাজিক গবেষণা উদ্যোগ, যা বাস্তবায়িত হয়েছে ভয়েস ফর রিফর্ম ও বিআরএআইএন-এর সহযোগিতায়।
এর আগে গত মার্চ মাসে একটি জরিপ করেছিল সংস্থাটি। সেখানে আগামী নির্বাচনে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) ভোট দিতে চান আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে চান ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ। ৫৮ শতাংশ ভোটার চলতি বছরের মধ্যেই নির্বাচন চান। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগকে চান ১০ শতাংশ মানুষ, যা সেপ্টেম্বরের জরিপে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেড়েছে।









