কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন। এছাড়াও কক্সবাজারের টেকনাফে মহেশখালীপাড়া সমুদ্রে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হারবাং ইউনিয়নের ভিলেজার পাড়া দ্বীনিয়া মাদ্রাসার সামনে লরির ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী যুবক নিহত হন। নিহতরা হলেন, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (২২) এবং একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঙ্গা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ রিফাত (২২)।
চিরিংগা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুল আমিন বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে চকরিয়া উপজেলার নলবিলা খাদ্যগুদামের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে একটি ডাম্পার (মিনি ট্রাক) চাপায় মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। তিনি বায়োফার্মার সিনিয়র এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, সোনালী ব্যাংক চকরিয়া শাখার ম্যানেজার মো. গিয়াস উদ্দিন (৪২) এবং বায়োফার্মার রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার এস.এম. আলমগীর (৪৫)।
স্থানীয়রা জানান, সকালে মোটরসাইকেলে করে বোরহান উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন ও আলমগীর পেকুয়া উপজেলার শিলখালী থেকে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের নলবিলা খাদ্যগুদামের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি ইটভর্তি ডাম্পার তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বোরহান উদ্দিন।
এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফে মহেশখালীপাড়া সমুদ্রে গোসল করতে নেমে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও দুই শিশু। নিখোঁজদের উদ্ধারে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
রোববার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেশখালীপাড়া নৌঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত নুর কামাল (১২) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কোনকারপাড়ার সাদ্দাম হোসেনের ছেলে। নিখোঁজরা হলো ইমরান হোসেন (১২) এবং নজরুল হক (১২)। তারা একই এলাকার আসরাফিয়া দারুন নাজাত মাদ্রাসার ছাত্র।
নিখোঁজ ইমরান হোসেনের বাবা মো. কামাল জানান, মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে ঘুরতে এসে সাগরে গোসল করার সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আমার ছেলে ও আরেকজন এখনও নিখোঁজ। তাদের উদ্ধার করতে কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল অভিযান চালাচ্ছে।
টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার মুকুল কুমার বলেন, আজ দুপুরে তিন শিশু একসঙ্গে সাগরে গোসল করতে নেমে তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে নুর কামালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ দুই শিশুর সন্ধানে কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল কাজ করছে।









