ফেনীতে মুক্তিপণ না পেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আহনাফ আল মাঈন নাশিতকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের পিপি মো. শাহাব উদ্দিন আহাম্মদ জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম ও ওমর ফারুক রিপাত। আশ্রাফ হোসেন তুষার ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজপানুয়া গ্রামের ইকবাল হোসেন চৌধুরীর ছেলে এবং ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। মোবারক হোসেন ওয়াসিম ফেনী পৌরসভার বারাহিপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক। অপরদিকে, ওমর ফারুক রিপাত লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানার কামালপুর এলাকার দুদু মিয়া বাড়ির মো. শাহ আলমের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার আতিকুল আলম সড়কে কোচিং শেষ করে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্ব পরিচিত আশ্রাফ তুষার ও তার সহযোগীরা নাশিতকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয়।
পরে নাশিতের ছবি তুলে তার বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে আসামিরা। একপর্যায়ে মুক্তিপণ না পেয়ে নাশিতকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ রেললাইনের পাশে একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। মরদেহ পানিতে ভেসে উঠতে না পারে সেজন্য নাশিতের স্কুল ব্যাগে পাথর ভরে চাপা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহত নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তী দুই দিন একটি মোবাইল নম্বর থেকে বারবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষার নামের এক কিশোরের নাম পুলিশকে জানালে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে নাশিতের স্কুল ব্যাগসহ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আহনাফ আল মাঈন নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের আনসার আলী ফকির বাড়ির মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত।









