গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ ঘিরে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে আরও তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর ফলে মোট মামলার সংখ্যা ১৫টি।
এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে, যাদের মধ্যে অন্তত দেড় হাজার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী রয়েছে। বাকি আসামিদের বড় অংশই নারী, শিশু এবং সাধারণ নীরিহ মানুষ।
গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ পৌরপাক এলাকায় এনসিপি আয়োজিত একটি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেনা ও পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা প্রশাসকের বাসভবন এবং সমাবেশস্থলে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এসময় সমাবেশের মঞ্চ, চেয়ার ও অন্যান্য সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়। এর জেরে প্রথম দফায় ১২টি মামলা হয়, যার মধ্যে ৫টি হত্যা মামলা। নতুন করে আরও ৩টি মামলা যুক্ত হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এসব মামলায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও অসংখ্য সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া দিনমজুর, এমনকি নারী ও শিশুদেরও আসামি করা হয়েছে।
তারা দাবি করেন, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জে পলাতক অবস্থায় রয়েছে। ১৬ জুলাইয়ের ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই বলেও মনে করেন তারা।
গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশের এক সপ্তাহ আগে থেকেই এনসিপির কিছু সমর্থক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ ভাঙার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবি, এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দেন, যা স্থানীয় জনগণকে প্রবলভাবে উত্তেজিত করে তোলে। এরপরই গোপালগঞ্জের সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং এনসিপির সমর্থকদের প্রতিহত করতে চায়।
অবস্থার অবনতি দেখে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও অন্যান্য এনসিপি নেতারা সেনাবাহিনীর গাড়িতে করে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এরপর সেনা ও পুলিশের সদস্যরা এনসিপির পক্ষ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালায়, যাতে ঘটনাস্থলে ৫ জন নিহত হন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ১৬ জুলাই এনসিপির পদযাত্রা ঘিরে শহরের পৌরপাক, লঞ্চঘাট, কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা টায়ার ও গাছের গুড়ি জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তারা জেলা প্রশাসকের বাসভবন ও এনসিপির সমাবেশস্থলেও ভাঙচুর চালায়।
এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা এখনো মাঠে রয়েছে, এবং গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে।









