খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের প্রতিবাদে আন্দোলনকারীদের সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এবার ছড়িয়েছে জেলার গুইমারায়। সেখানে ১৪৪ ধারার মধ্যেই সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর তিনজন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া হামলার আঘাত ও গুলিবিদ্ধ হয়ে নারীসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে নৃগোষ্ঠীর সদস্য-বাঙ্গালি ও সেনাবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত ৪ জনকে বিকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের বাড়ি গুইমারায়।
রোববার ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে অবরোধ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে ভর্তি আহত ৪ জন হলেন: অংচিং মারমা (১৬), বিকাশ ত্রিপুরা (২৬), চিংকিউ মারমা (২৬), উশ্য মারমা (২২)।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ঘটনার জেরে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধকালে রোবার বেলা ১২টার দিকে জেলার খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়কের গুইমারা খাদ্য গুদাম এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করছিলেন পিকেটাররা। এসময় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের সাথে তাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। পিকেটারদের হামলায় এক সেনা কর্মকর্তা জখম হলে পিকেটার ও বাঙ্গালি দুইপক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোঁড়াছুড়ি হয় এবং ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনার একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। এসময় ২০ থেকে ২৫ জন সেনা সদস্য আহত হয় বলে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে।
অন্য একটি সূত্র দাবি করেছে, ঘটনার সময় পাহাড়ের উপর থেকে একটি আঞ্চলিক একটি দল ব্রাশফায়ার করলে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। এসময় উপজেলার কয়েকটি সরকারি দপ্তর এবং রামছু বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বসতবাড়িতে আগুন দেয়া হয়। এতে পাহাড়ি-বাঙ্গালি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে রোববার বিকেলে অজ্ঞাতনামা ৩ জনের মরদেহ খাগড়াছড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা কোন ঘটনায়, কোথায় নিহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে জানা যায়নি। এমনকি দায়িত্বশীল কেউ নিশ্চিত করেননি।
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা এবং অবরোধকে কেন্দ্র করে এখনও খাগড়াছড়ির পরিস্থিতি থমথমে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা কাজ করছে। দুর্গাপূজা শুরু হলেও মণ্ডপে উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশ মাঠে রয়েছে। এছাড়া খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৩ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগীর বাবা অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা করেন। পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর সহায়তায় সন্দেহভাজন যুবক শয়ন শীলকে আটক করে পুলিশ।








