পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডাকাতি ও আমেরিকা প্রবাসীর স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার অন্যতম তিন আসামিকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করেছে পটুয়াখালীর ডিবি পুলিশ।
আজ শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভা কক্ষে একপ্রেস ব্রিফিংয়ে বাউফল সার্কেলের এএসপি আরিফ মুহাম্মদ শাকুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতাররা হলেন- কাওসার, আশীষ গাইন ও রিপন সোহাগ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ভিকটিমের কাছ থেকে লুট করে নেওয়া মোবাইল ফোন।
এএসপি আরিফ মুহাম্মদ শাকুর সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের গত ১৪ জুলাই গভীর রাতে কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলীতে তরিকুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ডাকাতদলের স্বীকোরক্তিমূলক জবানবন্দীর বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনার দিন রাতে ৬/৭ জনের ডাকাত দল ডাকাতির উদ্দেশ্যে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির সামনে একটি পরিত্যক্ত বিল্ডিংয়ে অবস্থান নেন। রাত দেড়টার দিকে ডাকাতদল কয়েকজন সেলাই রেঞ্জ দিয়ে বাড়ির বেলকনির গ্রীল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। ডাকাতদল প্রথমে তরিকুল ইসলামের মা, বোনকে বেঁধে ফেলে। এ সময় রুমে থাকা বোনের বাচ্চাদের চিৎকারে তরিকুল ইসলাম তার রুম থেকে বের হয়ে আসলে ডাকাতরা তাকেও বেঁধে ফেলে, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল লুট করে নেয়। পরে গ্রেফতার কাওসার ও রিপনকে বাড়ির সামনে দুই রুমের সামনে পাহারায় রেখে গ্রেফতারকৃত আশিষ গাইনসহ অন্য ডাকাতরা তরিকুলের আমেরিকা প্রবাসী নববধুকে একটি কক্ষে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে রাতেই ডাকাতরা পালিয়ে যায়।
এ খবর পেয়ে কলাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় তদন্তে অংশ নেয় পুলিশ। এ ঘটনায় পরদিন থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে অভিযান শুরু করেন।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৩ সেপ্টেম্বর আসামি কাওসারকে ঝিনাইদাহ জেলার মহেশপুর থানাধীন শ্যামকুড় বর্ডার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। পরে কাওসারের তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে ঢাকার দারুসসালাম থানাধীন টেকনিক্যাল মোড়ের একটি বস্তি থেকে আসামি রিপনকে গ্রেফতার করে এবং ডাকাতি করে নিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতারদের তথ্যের ভিত্তিতে কলাপাড়া পৌর এলাকা থেকে আশিষ গাইনকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে কোর্টে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে বাউফল সার্কেলের এএসপি আরিফ মুহাম্মদ শাকুর জানান, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।









