অবিশ্বাস, বিভক্তি আর দ্বন্দ্বের দোলাচলে দুলছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি। চলতি বছরের মাঝামাঝি ১৮ টি চলচ্চিত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গড়া ‘চলচ্চিত্র পরিবার’ থাকা স্বত্ত্বেও তার বিপরীতে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২ অক্টোবর তৈরী হয়েছে ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ফোরাম’। এ নিয়ে গোমট অবস্থায় রয়েছে চলচ্চিত্র অঙ্গন। প্রশ্ন ওঠছে, চলচ্চিত্রের বর্তমান বাস্তবতায় নতুন কোন সাংগঠনিক প্রয়াস জরুরি ছিল? কিংবা এতে লাভ বা ক্ষতি কি হল? এ নিয়ে দুই ধারার বাইরের সিনেমা সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদক হাসান আহমেদ-
সোহেল রানা( অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালক ):
চ্যানেল আই অনলাইন তাও ফোন দিল। এখনতো কথা না বলেই মন্তব্য দিয়ে দেয়। শুধু এটুকু বলব, একজনের জন্য কখনও কিছু থেমে থাকে না। জায়গা শূণ্য থাকেনা। যে কোন জিনিসে একক কর্তৃত্ব বজায়ের প্রবণতা ইতিবাচক নয়। সরাসরি বলব সেটা শাকিব এবং জাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। শাকিব যদি চলেও যায় তাতে ইন্ডাস্ট্রির তেমন ক্ষতি হবেনা। যা ক্ষতি হওয়ারতো গত প্রায় দেড় যুগে হয়েই গেছে। এমডি বানাচ্ছেন আমলা থেকে। যারা বসতে না বসতে বিদায়ের ডাক এসে যায়। জিনিসপত্র কিনছে যারা এ বিষয়ে জানেনা তাদেরকে দিয়ে। বললেন,সরকার সিনেমা হল করবে। তাও ৬ মাস হল কয়টা সিনেমা হল বানালেন। আর খোকন বা মিশাদের জন্য বলার কিছু নাই। বেশি টান দিতে চাইলে দড়ি ছিঁড়ে যায়। আরশিতে আপন প্রতিবিম্ব দেখা উচিত সবার।
বাপ্পারাজ(অভিনেতা ও পরিচালক) :
ফোরাম নিজেও হয়ত ক্লিয়ার না তারা কি ভাবে এগুবে। আমিও নই। তাছাড়া নায়করাজের সন্তান আমি। তার নাম যথেচ্ছ ব্যবহার করার সুযাগ আমাদের পরিবার দেবেনা। আর ‘ফোরাম’ বাস্তবতা কিন্তু তৈরী হয়েছিল। কারণ আপনি যদি ২ জনকে নির্যাতন করেন ৫০ জনের মধ্যে তখন নির্যাতিতই চুপই থাকে। কিন্তু যখন ২০ জনকে অন্যায় আচরণের শিকার তখন কিন্তু ৫০ জনের শক্তি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। যেমন আমার বেলায় যা হয়েছিল সেটা না হলেও পারত। আমি কিন্তু অনেক কো-অপারেটিভ। আমার অপরাধ হলে সেটা আমাকে ডাকলেই হত। আমি একজন পাচক ডাকলেও আসি কিন্তু। যাহোক, মূল কথা চলচ্চিত্র না থাকলে কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না। কর্তৃত্বপরায়ণতা বা ব্যক্তিস্বার্থ সংরক্ষণের চিন্তা বাদ দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়ে ভাবতে হবে। আপনি বলুন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণসময় কোন পরিবার বা ফোরাম ছিল? তখন নিজেদের মধ্যে কোন ঝামেলা হলে অগ্রজদের মধ্যস্থতায় দ্রুত সব মিটে যেত। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্র। অন্য কিছু নয়।
রিফফাত ফেরদৌস (চেয়ারপার্সন, টেলিভিশন চলচ্চিত্র ও ফটোগ্রাফি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়):
প্রয়োজনের তাগিদে কোন সাংগঠনিক চর্চার দরকার হলে তা দোষণীয় নয়। তবে আমাদের চলচ্চিত্রের যেসব সংগঠন আগে থেকেই আছে তারা কিন্তু তাদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করার চেষ্টা করছে। সেটাকেই আরো সংষ্কার করে সবাই একসঙ্গে বসে কাজ করলে ভালো হয় বলে আমি মনে করি। ২০০০ পরবর্তী প্রায় দেড় যুগে অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে গেলেও কিছু কাজ কিন্তু হয়েছে। আর এখন বেশ ভালো করার সম্ভাবনাও তৈরী হয়েছে। অহেতুক বিভক্তি সেই সম্ভাবনার অঙ্কুরে বিনাশ ঘটাবে।








