১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় জাল ১ লাখ টাকা বিক্রি করত জাল টাকার কারবাবি চক্র। এই চক্রের মূলহোতা লিয়াকত হোসেন জাকির। জাল টাকা বিক্রির ঝুঁকি এড়াতে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিত চক্রটি।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি জাল নোট তৈরি চক্রের মূলহোতাসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন-লিয়াকত হোসেন জাকির ওরফে মাজার জাকির ওরফে গুরু জাকির (৪০), তার দ্বিতীয় স্ত্রী মমতাজ বেগম (২৫), লিমা আক্তার রিনা (৪০) ও সাজেদা আক্তার (২৮)।
শনিবার দুপুরের পর রাজধানীর দনিয়ার কদমতলী এলাকায় জাল টাকার কারখানাসহ বিপুল পরিমাণ টাকা ও মুদ্রা জব্দ করে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান।
তিনি বলেন, অভিযানে দুটি বাসা থেকে তৈরি করা প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা এবং আরও প্রায় ৩ কোটি জাল টাকা তৈরি করার মতো বিশেষ কাপড়/কাগজ, বিশেষ ধরনের কালি, ল্যাপটপ কম্পিউটার, চারটি প্রিন্টার, বিভিন্ন সাইজের কয়েক ডজন স্ক্রিন/ডাইস, সাদা কাগজ, হিটার মেশিন, নিরাপত্তা সুতাসহ জাল টাকার হরেক রকম মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশি ২০০, ৫০০, ১০০০ জাল নোট ও ভারতীয় ৫০০ রুপির বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধার করা হয়েছে।
জাল টাকা বিক্রির বিষয়ে ডিসি মশিউর বলেন: বর্তমানে কাগজ, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের কালি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাকির প্রতিটি ১০০০ টাকার একশতটি নোটের এক বান্ডেল (এক লাখ টাকা) ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করতো। ব্যক্তি পর্যায়ে জাল টাকা বিক্রি করলে ধরা পড়ে গ্রেফতার হতে পারে তাই গ্রেপ্তারের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য অনলাইনে (বিশেষত ফেসবুক ও মেসেঞ্জার) দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে জাল টাকা বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিতো। গত ১২ বছরে জাকির কখনো জাল টাকা খুচরায় বিক্রি করেনি।
জাল টাকার কারবারির সহযোগী সম্পর্কে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন: জাকির অত্যন্ত দক্ষ একজন জাল টাকা প্রস্তুতকারী কারিগর। তার চক্রে নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ১৫/২০ জন কর্মচারী আছে। তার এই সব কর্মচারীদের মাসে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বেতন দিতো। চক্রে ১৫ থেকে ২০ জন এজেন্ট রয়েছে। যারা সারাদেশে জাল টাকা ছড়িয়ে দিতো।
জাকিরের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মশিউর রহমান বলেন: গত রোজার ঈদের আগে জাকিরের তৈরি করা জাল নোটের দু’জন পাইকারী ক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের সূত্রধরে বসুন্ধরা এলাকার এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নারী মাদকের একটি মামলায় কারাগারে গিয়ে জাল নোট চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়। এরপর জামিনে এসে জাল টাকার কারবার শুরু করে। ঈদকে সামনে রেখে সে ৫০ লাখ জাল টাকা কেনার জন্য এসেছিলো। তার সূত্র ধরে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, জাকির যে বাসায় অবস্থান করে জাল টাকা বানাতো সেই বাসার আশেপাশে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি করত। যাতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধরতে না পারে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিত টের পেলেই সে পালিয়ে যেতো।
জাল টাকা প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংককে আরও আন্তরিক হওয়ার তাগিদ দিয়ে এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন: সারা বছর গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে হয়। নানা ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি জাল টাকা কারবারিদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কারণ জাল নোটের চক্রগুলো সারা বছরই জাল টাকা তৈরি করছে।









