চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।
আজ ২১ মার্চ শুক্রবার সকাল ৬টায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চানপুর ইউনিয়নের মোহিনীপুর এলাকার খোরশেদ মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া (২৬) ও আব্দুল বারিকের ছেলে বাশার মিয়া (৩৭)।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চানপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সামসু মিয়ার অনুসারীদের সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের অনুসারীদের বিরোধ চলে আসছিল। এই দ্বন্দ্বের জেরে দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকার বাইরে ছিল আব্দুস সালামের অনুসারীরা। আজ ভোরে তারা এলাকায় ঢুকলে প্রতিপক্ষ সামসু মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
তারা জানান, এসময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ও গুলিবিদ্ধ হয়ে আমিন ও বাশার নামে দুইজন মারা যায়। নিহত দুইজনই বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামের অনুসারী। নিহত দুইজনের মরদেহ রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হবে।
সংঘর্ষের পর মোহিনীপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহত আমিন মিয়ার বাবা খোরশেদ মিয়া জানান, সামসু মেম্বারের কারণে আমি আমার ছেলেসহ পাঁচ মাস যাবৎ বাড়ি ছাড়া। সামনে ঈদ। তাই ছেলেসহ আরো যারা গ্রাম ছাড়া ছিলাম আমরা সবাই মিলে সকাল ৬টার দিকে বাড়িতে যাচ্ছিলাম। এসময় সামসু মেম্বারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করে। এসময় আমার ছেলের দুই পায়ে দুইটা গুলি করে মাটিতে ফেলে বুকের উপর বসে গলা টিপে মারে। আমার ছেলে প্রায় চার মাস আগে সৌদিআরব থেকে দেশে আসছে। আমি এই হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম জানান, গত ছয় মাস ধরে প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে আমার অনুসারীরা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছিলেন। আজ যখন তারা বাড়িতে ফিরছিলেন, তখন সামসু মেম্বারের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে আমার পক্ষের দুইজন নিহত হয়েছেন।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









