মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্দুকধারীরা ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে এ হামলায় দুইজন নিহত এবং আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্স শহরের মেয়র ব্রেট স্মাইলি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে জরুরি সেবার ৯১১ নম্বরে প্রথম কল পাওয়া যায়। আহতদের প্রভিডেন্সের রোড আইল্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতরা গুরুতর হলেও বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।
মেয়র স্মাইলি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে দুইজন নিহত এবং আটজন গুরুতর আহতের তথ্য রয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, সংখ্যা বাড়তেও পারে। তিনি নিহত বা আহতদের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং বলেন, তদন্ত চলমান রয়েছে।
রোড আইল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মতে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এখনও আটক হয়নি। তিনি কালো পোশাক পরা ছিলেন এবং হেঁটেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি।
প্রভিডেন্স পুলিশ প্রধান টিমোথি ও’হারা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট ভবনগুলো পদ্ধতিগতভাবে তল্লাশি করলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি হোপ স্ট্রিট দিয়ে এলাকা ছেড়ে যায়।
স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম জরুরি সতর্কতা জারি করে। এতে জানানো হয়, ইঞ্জিনিয়ারিং ও পদার্থবিদ্যা ভবনের কাছে একজন সক্রিয় বন্দুকধারী রয়েছে।
ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ক্রিস্টিনা প্যাক্সটন এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, এটি এমন একটি দিন, যা আমরা কখনোই আমাদের সম্প্রদায়ে দেখতে চাইনি। এটি আমাদের সবার জন্য গভীরভাবে বিধ্বংসী। তিনি ক্যাম্পাসজুড়ে লকডাউন প্রোটোকল কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ভুলবশত সন্দেহভাজন আটক হয়েছে বলে পোস্ট করেন, যা পরে প্রত্যাহার করা হয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে এফবিআই ঘটনাস্থলে রয়েছে।









