রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের ঐতিহ্যবাহী তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রথম অ্যালামনাই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা থেকে দিনব্যাপী এই কনফারেন্সে অংশ নেন মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, আলেম-উলামা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা।
চারটি সেশনে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “তা‘মীরুল মিল্লাত এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেটি শুধু মাদ্রাসা নয়—এটি বাংলাদেশের একটি ব্র্যান্ড। এখানকার শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার আহ্বান, তারা যেন দ্বীনি জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সমাজ পরিবর্তনের জন্য ভূমিকা রাখে।”
আলোচনায় বক্তারা বলেন, তা‘মীরুল মিল্লাত দেশের ইসলামি ও আধুনিক শিক্ষার এক সফল মেলবন্ধন। এখানকার শিক্ষার্থীরা শুধু ধর্মীয় শিক্ষায় নয়, আধুনিক উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও সাফল্য দেখিয়ে চলেছে।
‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নতুন সূচনা হয়েছে। এই বিপ্লব ছিল রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক—যা বাঙালি মুসলমানের আত্মপরিচয়কে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তা‘মীরুল মিল্লাত এই রেনেসাঁর ধারক হয়ে উঠতে পারে।” তিনি স্মৃতিচারণ করে জানান, মালয়েশিয়ার ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতেও তিনি তা‘মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থীদের সুনাম প্রত্যক্ষ করেছেন।
উদ্বোধনী বক্তব্য দেন তা‘মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জয়নুল আবেদীন। সভাপতিত্ব করেন প্রিন্সিপাল ড. খলীলুর রহমান মাদানী।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হাসান, জনপ্রিয় দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. নকিব মো. নাসরুল্লাহ, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. শামসুল আলম, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মুহাম্মদ নূরুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, মাওলানা মোশতাক ফয়েজী, ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, তা‘মীরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাসে নানা সময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তাদের মেধা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
সম্মেলনে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত ১২০টি ব্যাচের প্রায় ৩ হাজার নিবন্ধিত প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর, স্মৃতিচারণা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বন্ধন পুনর্নবীকরণের এক মিলনমেলা।









