রাজধানীতে গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ১৯২ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল মোহাম্মদপুরেই খুনের ঘটনা ঘটেছে ২১টি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে (অক্টোবরের ২৩ তারিখ পর্যন্ত) রাজধানীতে ১৯২ জন খুন হয়েছেন। শুধু মোহাম্মদপুরেই ২১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাজধানীতে খুনের ঘটনা ছিল ১১টি, অক্টোবরে ১৯টি।
এরপর সেনাবাহিনীর তরফ থেকে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে অভিযান জোরদার এবং থানা পুলিশের তরফে তৎপরতা বাড়ানোর কথা বলা হয়। যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের তিন দিনে (২৬ অক্টোবর থেকে) গ্রেপ্তার হয় শতাধিক।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার এসে ঢাকা মহানগর পুলিশের মাঠপর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করে। এখন ঢাকার থানাগুলোতে পুলিশের বড় অংশই ঢাকার বাইরে থেকে আসা। তারা রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলি এখনো ঠিকমতো চেনে না। এ ছাড়া রাজধানীতে তাদের সোর্সও (তথ্যদাতা) এখনো গড়ে ওঠেনি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে।
ডিএমপির তথ্য বলছে, গত ৯ মাসে ঢাকার বিভিন্ন থানায় খুনের মামলা হয়েছে ৪০২টি, এর মধ্যে সেপ্টেম্বরেই হয়েছে সর্বোচ্চ ১৪৮টি। এছাড়া অগাস্টে ১১৯টি, জুলাইয়ে ৫৯টি, জুনে ১৩, মে মাসে ১৬, এপ্রিলে ১৪, মার্চে ১৮, ফেব্রুয়ারিতে ৪ আর জানুয়ারিতে হত্যা মামলা হয়েছে ১১টি।
এছাড়া গত ৯ মাসে দস্যুতার ১৬২টি, ডাকাতির ২৪টি, অপহরণের ৭২টি এবং চুরির ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৬১টি। এর মধ্যে অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে দস্যুতার মামলা ১৮টি, ডাকাতি ৯টি, অপহরণের ৩৩টি এবং চুরির মামলা হয়েছে ৪৮টি।
তবে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে চুরি-ছিনতাইয়ের মত ঘটনায় পুলিশের কাছে যান না অনেকেই। এ কারণে অপরাধের সঠিক চিত্র মামলার এই পরিসংখ্যানে উঠে আসে না।
ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, মাসভিত্তিক খুনের মামলার পরিসংখ্যানের হিসাবে অগাস্টে ও সেপ্টেম্বরে অনেক বেশি মামলা হয়েছে। ওই দুই মাসে খুনের মামলা হয়েছে মানেই ওই মাসগুলোতেই খুনের ঘটনা ঘটেছে এমন নয়।
রোজকার চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে মোহাম্মদপুরে একদল মানুষ ২৬ অক্টোবর বিকালে থানায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয়। এর মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে থানায় অবস্থানের ঘোষণাও দেওয়া হয়।
মোহাম্মদপুর এলাকায় ‘অরাজক’ পরিস্থিতির জন্য পুলিশ স্বল্পতাকে দায় দিচ্ছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ জিয়াউল হক। তিনি বলেন, আমাদের ফাঁড়িগুলোতে এখন পর্যাপ্ত ফোর্স নেই। যানবাহন সংকটে ব্যাহত হচ্ছে টহল কার্যক্রম।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: রাজনৈতিক কারণ, ভৌগলিক অবস্থান, বিহারী ক্যাম্প ইত্যাদি নানা কারণে মোহাম্মদপুর আগে থেকেই রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি। রাজনৈতিক পালা বদলের পর সহিংসতা, পারস্পারিক সংঘাত এসব কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা নিজেদের ব্যবহার করেছে।
তিনি বলেন, পুলিশ এখনো নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি। তারা জনগণের প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি। কাঠামোগত দিক থেকেও তারা এখনো স্বচ্ছভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।
এদিকে ছিনতাই বাড়লেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি দেখছে না ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধে জড়িতরা যেখানেই থাকুক, ছাড় পাবে না বলে জানান কর্মকর্তারা।
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, আগের যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তার ভিত্তিতে আমরা কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। গত এক মাসে, রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির অভিযোগে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েক শ অপরাধী।
গত সোমবার এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম সন্ত্রাস, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক, কিশোর গ্যাং, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান জোরদার করতে পুলিশের সব ইউনিটকে নির্দেশনা দিয়েছেন।









