গাজার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্বের নামকরা বহু চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। সোমবার প্রকাশিত এক অঙ্গীকারপত্রে ১,৮০০-এর বেশি অভিনেতা, প্রযোজক ও শিল্পীর নাম দেখা গেছে। যার মধ্যে রয়েছেন একাধিক অস্কারজয়ী তারকাও।
কিংবদন্তী নির্মাতা কেন লোচ, অভিনেতা মার্ক রাফালো, এমা স্টোন, জাভিয়ার বারদেম, গায়েল গার্সিয়া বার্নেলসহ শীর্ষ তারকাদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঘোষণা দিয়ে বলা হয়েছে- তারা এমন কোনো ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবেন না, যেগুলোকে ‘গণহত্যা ও বর্ণবাদের সঙ্গে জড়িত’ বলে অভিযুক্ত।
এই ঘোষণায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী আমলে যেভাবে ‘বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মাতারা’ নিজেদের কাজ প্রদর্শনে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, সেই অনুপ্রেরণায় তারা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন।
অঙ্গীকারপত্রে উল্লেখ করা হয়, “আমরা প্রতিজ্ঞা করছি, আমাদের এমন চলচ্চিত্র প্রদর্শন করব না কিংবা কোনো উৎসব, সিনেমা হল, সম্প্রচার সংস্থা বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হব না- যেগুলো ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও বর্ণবাদের সঙ্গে জড়িত।”
তবে এতে স্পষ্ট করে বলা হয়, এটি ইসরায়েলি ব্যক্তিদের বয়কট নয়, বরং ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে দেওয়া একটি আহ্বান, যেগুলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আরো রয়েছেন অস্কারজয়ী অলিভিয়া কোলম্যান, টিল্ডা সুইন্টন, রিজ আহমেদ, হাভিয়ার বারদেম এবং সিন্থিয়া নিকসনসহ বহু তারকা মুখ।
এই ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। কয়েক লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, হাজারো শিশু অপুষ্টি ও দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে। বহু মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘গণহত্যামূলক’ আখ্যা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মতামতকেও প্রতিধ্বনিত করছে।
অন্যদিকে, ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, এটি বৈষম্যমূলক প্রচারণা। তাদের দাবি, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১,২০০ মানুষ নিহত ও আড়াই শতাধিককে জিম্মি করার প্রতিক্রিয়ায় তারা আত্মরক্ষার্থেই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত সপ্তাহে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয় ডকুমেন্টারি ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’, যেখানে গাজায় নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশুর করুণ কাহিনি উঠে আসে। এই চলচ্চিত্রটি রেকর্ড সময় স্ট্যান্ডিং অভেশন পায় এবং এর নির্বাহী প্রযোজক ছিলেন ব্র্যাড পিট ও জোয়াকিন ফিনিক্স এর মতো বিখ্যাত দুই হলিউড তারকা।
বিশ্বজুড়ে গাজার ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি যতই ছড়িয়ে পড়ছে, ততই ইসরায়েলের প্রতি সাংস্কৃতিক প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়ে উঠছে- সেই প্রেক্ষাপটেই এই চলচ্চিত্রকর্মীদের বয়কট অঙ্গীকার নতুন মাত্রা যোগ করল। টাইমস অব ইসরায়েল









