অভিবাসন খাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য এবার ব্র্যাক মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ১৫ সাংবাদিক।
রোববার ১৭ ডিসেম্বর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও নীতি অনুবিভাগের প্রধান আয়েশা হক ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর সংবাদপত্র জাতীয় বিভাগে দৈনিক সমকালের রাজিব আহাম্মদ প্রথম পুরস্কার পান। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’র মো. মাসুম বিল্লাহ দ্বিতীয় এবং দৈনিক বাংলার জেসমিন আকতার তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। সংবাদপত্র আঞ্চলিক ক্যাটাগরিতে প্রথম হন একুশে পত্রিকার শরীফুল ইসলাম, দ্বিতীয় দৈনিক চট্টগ্রাম খবরের ইফতেখায়রুল ইসলাম এবং তৃতীয় হয়েছেন দৈনিক জৈন্তা বার্তার শাকিলা ববি।
টেলিভিশন নিউজ বিভাগে যমুনা টেলিভিশনের আহমেদ রেজা প্রথম স্থান লাভ করেন। যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের তালাশ দলের দুই অনুসন্ধানী সংবাদিক এনামুল হক ও মো. নাজমুল সাইদ এবং তৃতীয় হয়েছেন নিউজ ২৪-এর খন্দকার বদরুল আলম।
রেডিও বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থা ও রেডিও তেহরানের এম এম বাদশা। অনলাইন সংবাদপত্র বিভাগে প্রথম পুরস্কার জিতেছেন জাগো নিউজের জাহাঙ্গীর আলম। দ্বিতীয় হয়েছেন ঢাকা পোস্টের আদনান রহমান ও তৃতীয় ঢাকা মেইলের মো. ইমরুল কায়েস। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে বাংলা টিভি। বিজয়ীরা পুরস্কার হিসেবে একটি ক্রেস্ট, স্বীকৃতির সনদ, এবং পুরস্কারের অর্থমূল্যের চেক পেয়েছেন।
অভিবাসন খাতে সাংবাদিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতে ২০১৫ সালে ব্র্যাক প্রথমবারের মতো মাইগ্রেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড প্রদান শুরু করে। এ বছর অষ্টমবারের মতো এই পুরস্কার দেওয়া হলো। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম-এর সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং অভিবাসন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান। এবারের বিচারকমণ্ডলীর সদস্য প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মির্জা শাকিলা দিল হাছিন ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের প্রবাসীরা প্রতি বছর অন্তত ২২ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠায় যেটি বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। জমি-জমা বিক্রি করে, নিজের টাকা খরচ করে বিদেশ গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে তারা দেশে যে টাকা পাঠায় এটাই দেশপ্রেমের বড় উদাহরণ। ডলার রিজার্ভের এই সংকটময় সময়ে আমরা সবাই তাদের দিকে তাকিয়ে আছি। কিন্তু অভিবাসীরা তো শুধু অর্থ পাঠানোর যন্ত্র না।
মাহফুজ আনাম বলেন, মানবিক দৃষ্টিতে আমাদের সবার এই খাতকে দেখতে হবে। অভিবাসন খাতে গণমাধ্যমের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই খাতের সমস্যাগুলো ধরে ধরে গভীরে যেতে হবে। কেন বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়ার খরচ নেপাল বা ভারতের চেয়ে এতো বেশি? কেন আমরা আরও বেশি দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারছি না? এই খাতে সরকারের বিনিয়োগ কতো? প্রবাসীদের কল্যাণের টাকা কোথায় কীভবে খরচ হচ্ছে? কেন সরকার অভিবাসন খাতের সিন্ডিকেট ভাঙ্গতে পারছে না? এসব নিয়ে গণমাধ্যমের গভীরে গিয়ে কাজ করা উচিত। সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব বিষয়ে আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। বিশেষ করে অভিবাসন খরচ কমাতে পারলে, অদক্ষ কর্মীকে দক্ষ করে বিদেশ পাঠাতে পারলে আরও বেশি প্রবাসী আয় আসবে। পাশাপাশি যারা বিদেশ থেকে ফেরত আসছে তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো উচিত।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও নীতি অনুবিভাগের প্রধান ও যুগ্ম সচিব আয়েশা হক বলেন, অভিবাসন খাতে গণমাধ্যমের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয় প্রবাসীদের নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখে সমাধানের চেষ্টা করে। পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরি ও নতুন শ্রমবাজার তৈরির কাজ করছে সরকার।
আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে ব্র্যাকের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম ও ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এতে সই করেন। এই সমঝোতার আওতায় নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত, মানবপাচার প্রতিরোধ, ও বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অভিবাসীদের কাজের নানা ধরনের স্বীকৃতির জন্য কাজ করবে ব্র্যাক ও ডেইলি স্টার।









