জয়পুরহাটের পাঁচটি থানা চত্বরে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে জব্দকৃত ১২ হাজার যানবাহন। এসব যানবাহন রাখার স্থানে কোনো ছাউনি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে আটক যানবাহনগুলোর প্রকৃত জিম্মাদার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। তবে মোটরযানগুলোর গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মালিকবিহীন যানগুলো নিলামে বিক্রি করে বিপুল রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জরাজীর্ণ যানবাহনগুলো কোনো কোনোটি পরিণত হয়েছে ভাঙারিতে। আদালতের নির্দেশ না পাওয়ায় এসব যানবাহন একদিকে যেমন নিলামে বিক্রি করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে কোটি টাকা রাজস্ব থেকে।
সরেজমিনে জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর থানা ঘুরে দেখা গেছে, রেজিস্ট্রেশন না থাকা, মাদক বহন ও দুর্ঘটনার দায়ে বিভিন্ন সময়ে জব্দ করা মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপসহ নানা ধরনের যানবাহন রাখার কোনো ছাউনি না থাকায় খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টিতে দীর্ঘদিন পড়ে থেকে মরিচা ধরে জরাজীর্ণ ও বিবর্ণ হয়ে গেছে। কোনো কোনোটি পরিণত হয়েছে ভাঙারিতে।
এসব যানবাহন থানা ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে থাকায় থানার ভেতরের জায়গা সঙ্কুচিত হচ্ছে। থানায় সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশও এসব জব্দ আলামত নিয়ে বেকায়দায় রয়েছে।
শুধুমাত্র আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় বছরের পর বছর জয়পুরহাট জেলা থানা পুলিশের হেফাজতে এসব যানবাহন পড়ে থাকায় একদিকে যানবাহনগুলো অযত্নে নষ্ট হতে হতে এক সময় হারাচ্ছে তার উপযোগিতা অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ না পাওয়ায় এসব যানবাহন নিলামেও বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে কোটি টাকা রাজস্ব থেকে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এসব যানবাহনগুলোর অনেক মালিকের প্রকৃত কাগজপত্র নেই। কোনো কোনো গাড়ির তুলনায় রেজিস্ট্রেশন কিংবা মামলার খরচ বেশি পড়ায় তারা আদালতে মামলা পরিচালনায় অনীহা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে বিভিন্ন সময় পুলিশের হাতে আটক যানবাহনগুলোর প্রকৃত জিম্মাদার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালত। সেখানে পর্যাপ্ত স্থান সংকুলান না হওয়ায় এসব যানবাহন থানা চত্বরে রাখা হয়েছে। যেসব থানার মালামাল কম সেসব থানা থেকে যানবাহনগুলো সংশ্লিষ্ট আদালতের আলামতখানায় স্থানান্তর করা শুরু হয়েছে। আদালত চত্বরে ধারণক্ষমতার অভাবে এসব জব্দ মালামাল স্থানান্তর সম্ভব হয়নি, কয়েকটি থানা চত্বরেও ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক নন্দলাল পার্শী জানান, কোটি কোটি টাকার মালামাল এভাবে রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে। যেন দেখার কেউই নাই। একদিকে মালিকানাধীন ও অন্যদিকে রাষ্ট্রের সম্পদ। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা করছি।
এভাবে আলামত জমতে থাকা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, মামলার বাদী ও সাক্ষী উভয়ই পুলিশ। তাদের বদলিজনিত কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সাক্ষী দিতে তারা আসেন না এ নিয়েও মামলার দীর্ঘ সময় লাগছে।

এছাড়া বিচারক সংকটের কারণেও মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে। ফলে এসব যানবাহন নিলামে বিক্রি করা অথবা প্রকৃত মালিককে হস্তান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে একদিকে যেমন মালিকরা তাদের যানবাহন ফেরত পাবেন, অন্যদিকে মালিকবিহীন যানগুলো নিলামে বিক্রি করে বিপুল রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতে পারে।
পুলিশ সুপার মাসুম আহম্মেদ ভূঁঞা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, জেলায় বিভিন্ন সময় আটক মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ভটভটি, রিকশা-ভ্যান, পিকআপ, ট্রাকসহ প্রায় ১২ হাজার যানবাহন আলামত হিসেবে রয়েছে। এসব যানবাহন সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থানা বা আদালতে নেই। তবে মোটরযানগুলোর গুণগত মান ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।







