কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তার কর্মস্থল থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোবাইল ফোনে ৩ মাদকসেবীকে দণ্ড দিয়েছেন। বিচারকাজে বিচারক অনুপস্থিত থেকে তাৎক্ষণিক কোনো দণ্ড দিতে পারেন কিনা সেই এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ৭ অক্টোবর শুক্রবার তিনি ঢাকায় থেকে থানায় আটক তিন মাদকসেবীর বিরুদ্ধে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার বলেন, ওসি তাকে মোবাইল ফোনে জানান যে, তিনজন মাদকসেবীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার করা দরকার। কিন্তু তিনি তখন ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। অভিযুক্ত মাদকসেবীরা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে – এমন তথ্য জানানোর পরই তাদের প্রত্যেককে দু’হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি। এভাবে রায় দেওয়াকে তিনি আইন বহির্ভূত মনে করেন না বলেও জানিয়েছেন।
তবে, আদালত এক জায়গায় আর বিচারক অন্য জায়গায় থেকে মোবাইল ফোনে রায় ঘোষণার ঘটনাকে নজিরবিহীন বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রামের সরকারি কৌশুলী আব্রাহাম লিংকন। কারও এরকম আইনি এখতিয়ার নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষেত্রে বিচারককে সশরীরে হাজির থাকতে হবে। তার উপস্থিতিতে
আসামী অভিযোগ স্বীকার করে নিলে বিচারক এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী রায় দেবেন। এক্ষেত্রে তিনি তা মানেননি।
রৌমারী থানার ওসি এ বি এম সাজেদুল ইসলাম জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায় অনুযায়ী জরিমানা আদায় করে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। রায় দেওয়ার সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক উপস্থিত ছিলেন না। তবে মোবাইল ফোনে তিনি সব কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং ছুটি শেষে রোববার তিনি ওই আদেশে সইও করেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে মাদক সেবনের দায়ে উপজেলার মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। তারা হলো – উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামের সোহরাওয়ার্দী মন্ডলের ছেলে রাফিউল ইসলাম সোহাগ, সায়দাবাদ পশ্চিমপাড়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে রফিকুল ইসলাম পারভেজ ও মির্জাপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে সজীব মিয়া।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)









