বাইসাইকেল এবং ইন্টারনেটের মধ্যে একটা দারুণ মিল আছে। বলুন তো সেটা কী? দুটোই অপরিচিত মানুষদের মাঝে সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে।
ইতিহাসবিদ গ্রাহাম রব এর বই ‘দ্য ডিসকভারি অব ফ্রান্স’-এ বাইসাইকেলের ব্যাপারে মজার একটা তথ্য দেয়া হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে ফ্রান্সে বাইসাইকেল বিক্রি বেড়ে যায়। আর এই বাইসাইকেলগুলোর প্রভাবে শারীরিক উচ্চতা বাড়ে ফ্রান্সের পুরুষদের।
ভাবছেন কেন?
এর পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন গ্রাহাম রব। বাইসাইকেলে যাতায়াতের ফলে নিজের এলাকার বাইরে যাওয়া শুরু করেন পুরুষেরা। চাকরী কিংবা বিয়ের পাত্রী খুঁজতে নিজ এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়েও সময়মত বাড়ি ফিরে আসতে পারতেন তারা। ফলে পরিচিতির গণ্ডি বৃদ্ধি পেত। এতে রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে বিয়ের হার কমেছিল। ফলে ফ্রেঞ্চদের গড় উচ্চতাও বৃদ্ধি পাচ্ছিল দিন দিন।
ইন্টারনেটের বিষয়টিও ঠিক একই রকম। আর এই কারণেই স্টিভ জবস একবার বলেছিলেন, কম্পিউটার হলো আমাদের মনের বাইসাইকেল। ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কিংবা ডেটিং সাইটগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের যেকোন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা সম্ভব। ফলে সেখান থেকেই প্রেম, যৌন সম্পর্ক কিংবা বিয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়। যদিও এখনও অনেকেই পারিবারিক পরিচিতি, সহকর্মী কিংবা প্রতিবেশীর মাধ্যমে সঙ্গী খুঁজে নেন।
একটি জরিপে দেখা গেছে যে আমেরিকায় বর্তমানে এক তৃতীয়াংশ বিয়েই টিন্ডার নামের অনলাইন ডেটিং সাইটের মাধ্যমে হয়। প্রায় ৫০ মিলিয়ন সদস্যের এই সাইটে প্রতিদিন ১২টি জুটির জোড়া মিলে। এতে দেখা গেছে যে নানা বর্ণের মানুষের মাঝে সম্পর্কের হার বেড়ে গেছে।
কিছু মানুষ শুধুমাত্র যৌনতার জন্য এসব সাইট ব্যবহার করলেও অনেকেই সম্পর্কে স্থায়ী হচ্ছেন এবং ডিভোর্সের হারও কমছে। এফটি।







