চট্টগ্রাম থেকে: প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে ফিফটি। পরের ম্যাচে বল হাতে তিন উইকেট। অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দুই ম্যাচে ভিন্ন দুটি ভূমিকায় সফল। পেস-অলরাউন্ডার খুঁজে না পাওয়ার যে দীর্ঘ হতাশা টাইগার ক্রিকেটে, সেটি কিছুটা হলেও কেটেছে এই তরুণের পারফরম্যান্সে।
২০১৯ বিশ্বকাপ মাথায় রেখে নির্বাচকরা দলে চাচ্ছেন এমন একজন পেস-অলরাউন্ডারই। এভাবে পারফরম্যান্স করে যেতে পারলে সেই মুখটি হতে পারেন সাইফউদ্দিন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দারুণ পারফরম্যান্সের পর সহজ হয়ে গেছে এ তরুণের সামনের পথ। জ্বরের কারণে রুবেল হোসেন না থাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে শুরু থেকেই একাদশে তিনি। চোখ যে সুদূরেই, ম্যাচসেরা হয়ে সেটি বললেন সাইফউদ্দিনও।
‘যেহেতু আমাকে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে ধরা হয়, আমার প্রথম স্কিল অবশ্যই বোলিং। বলে উইকেট পেলে বা ইকোনমি বল করলে ভালো লাগে। পাশাপাশি ব্যাটিংটা। চেষ্টা করি দুইটাই ভালো করার।’
ওপেনিংয়ে বোলিং না পেলেও বল নতুন থাকতেই অধিনায়ক মাশরাফী সুযোগ করে দেন সাইফউদ্দিনকে। নতুন বলের পাশাপাশি পুরনো বলেও করেছেন দারুণ বোলিং। সুযোগ পাওয়া আর কাজে লাগানোর জন্য যে মুখিয়ে ছিলেন, ম্যাচ শেষে সেটি নিয়ে সরল স্বীকারোক্তিই ঝরল সাইফউদ্দিনের কণ্ঠে।
‘আমি মনে মনে চাচ্ছিলাম ম্যাশ ভাই আমাকে আনুক। অবশ্যই ধন্যবাদ যে আমাকে এনেছে। চাচ্ছিলাম যে কিছু একটা করে দেখাতে। খেলছিলাম রুবেল ভাই অসুস্থ থাকার কারণে। এই জন্য আমার এমনকিছু করতে হতো যেন পরের ম্যাচে সুযোগ পাই। যাতে সবার নজরে আসি।’
সাউথ আফ্রিকা সফরে টি-টুয়েন্টি সিরিজে ডেভিড মিলারের ব্যাটে এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হজম। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেই বিপিএলের এক ম্যাচে ওভারে হজম সমান ছক্কা। সেই সাইফউদ্দিন বদলে গেছেন অনেকটাই। যার পেছনে আছে বাবার অনুপ্রেরণা।
‘আসলে কিছু সময় সাফল্য পেতে গেলে মানুষ একটু হোঁচট খেতেই পারে। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, আমার বাবা বলতেন- একটা ছেলে হাঁটা শিখতে গেলে বারবার হোঁচট খায়। তাই বলে কি তার হাঁটা বন্ধ হয়ে যায়? একইরকম আমিও মার খাবো। ওখান থেকেই তো শিখব।’









