পুঁজিবাদ এখন ডাইনোসরে রূপান্তর হয়ে সর্বগ্রাসী রূপে মনুষ্যত্বকে খেয়ে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। এ কারণে পুঁজিবাদের ধ্বংস অনিবার্য বলে মনে করছেন তিনি।
রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর বিএমএ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
এসময় তিনি বলেন: আজ পুঁজিবাদ ডাইনোসরে রূপান্তর হয়েছে। চরম ভোগবাদী বিধায় পুঁজিবাদের ধ্বংস অনিবার্য। পুঁজিবাদ ফ্যাসিবাদে রূপ নিয়ে মনুষ্যত্বকে ভোগ করতে শুরু করেছে। যে কারণে সারা পৃথিবী প্রস্তুত হচ্ছে অক্টোবর বিপ্লবের পথে হাঁটার জন্য।
ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) নেত্রী বৃন্দা কারাত বৃন্দা কারাত বলেন: অবস্থান বিবেচনায় সংসদীয় গণতন্ত্রকে অস্বীকার সুযোগ নেই। আমাদের সেখানে যেতে হবে। কারণ এখানে জনগণ আছে। তাই বলে শ্রেণি সংগ্রাম থেকে সরে গেলে হবে না।
পুঁজিবাদকে সমাজের জন্য অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন: আজ ৮ জন মানুষের কাছে যে সম্পদ আছে বিশ্বের তিনশ’ কোটি মানুষের কাছেও সে সম্পদ নেই। এই পুঁজিবাদের অভিশাপে ভারতে প্রতি বছর অসংখ্য কৃষক আত্মহত্যা করছে। এছাড়া মেয়েদের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন যা করেছে অন্য কোনো পুঁজিবাদী সমাজ তা করেনি বলে জানান বৃন্দা কারাত।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির নেতা প্রবোধ পাণ্ডা বলেন: সোভিয়েত ইউনিয়নের শক্ত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর পাঠাতে দেরি করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন না থাকলে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়ে বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করে দিত যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান।
সভাপতির বক্তব্যে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন: কমিউনিস্টদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই। আমরা এখন সবাইকে একত্রিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। অচিরেই দেশের সব বাম রাজনৈতিক শক্তি একত্রিত হবে। লগ্নি-পুঁজির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
সেমিনারে ‘সমকালীন পুঁজিবাদ ও অক্টোবর বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন কমরেড হায়দার আকবর রনো।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদীর বিশিষ্ট নেত্রী বৃন্দা কারাত, কমরেড প্রবোধ পাণ্ডা, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কমরেড বিজয় বাহাদুর কুনাড়, বাংলাদেশের ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী, কমরেড মনজুরুল আহসান খান, কমরেড খালেকুজ্জামান, জোনায়েদ সাকিসহ বাম আন্দোলনে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








