আন্তর্জাতিক

রিচার্জেবল ব্যাটারির কারণে রসায়নে নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

নোবেল-রসায়নে নোবেল-রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি

বাম থেকে: জন বি গুডইনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো

রিচার্জেবল ব্যাটারি উদ্ভাবন করে রসায়নবিদ্যায় যৌথভাবে ২০১৯ সালের নোবেল পেয়েছেন জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং জাপানের তিন বিজ্ঞানী।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরি এবং সেটি রিচার্জ করা সম্ভব, এমন যুগান্তকারী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে রসায়নবিদ জন বি গুডইনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম এবং আকিরা ইয়োশিনো এই পুরস্কার পেলেন।

১৯২২ সালে জন্ম নেয়া ৯৭ বছর বয়সী জন বি গুডইনাফ এ যাবতকালের সবচেয়ে বয়স্ক নোবেল বিজয়ী।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির নাম আমরা কমবেশি প্রায় সবাই-ই শুনেছি। যারা শুনিনি তারাও গোটা জীবন ধরেই জিনিসটি ব্যবহার করছি। আমাদের টর্চলাইট থেকে শুরু করে টিভির রিমোট, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, এমনকি ইলেকট্রিক যানবাহনেও এই ধরনের ব্যাটারিই ব্যবহৃত হয়।

এমনকি সৌরশক্তিসহ নবায়নযোগ্য বিভিন্ন উৎস থেকে উৎপাদিত শক্তি সঞ্চয়েও ব্যবহার হয় লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিই।

যাকে আমরা পেন্সিল ব্যাটারি বলে চিনি সেটিও লিথিয়াম-আয়ন দিয়েই তৈরি। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহার্য সরঞ্জামে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

আর সেই ব্যাটারির উদ্ভাবন থেকে শুরু করে আজকের পর্যায়ে আনার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন এবারের নোবেলজয়ী তিন বিজ্ঞানী। তাদের অবদানের ফলেই তারবিহীন, জীবাশ্ম জ্বালানিমুক্ত সমাজের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।

লিথিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে হালকা কঠিন মৌল। এটি খুবই সক্রিয় একটি মৌল। তাই প্রকৃতিতে এটি খাঁটি হিসেবে নয়, অন্য মৌল বা যৌগের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তৈরি হওয়া খনিজে আয়ন হিসেবে পাওয়া যায়। খাঁটি লিথিয়াম সবসময় তেলে ডুবিয়ে রাখতে হয় যেন বাতাসের সংস্পর্শে না আসে।

কিন্তু যে সক্রিয়তার কারণে লিথিয়াম সঞ্চয় করে রাখা ঝামেলা, সেই সক্রিয়তাই আবার এর সবচেয়ে বড় শক্তি। ১৯৭০’র দশকে যুক্তরাজ্যের স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম লিথিয়াম পরমাণুর বাইরের শক্তিস্তরে থাকা ইলেকট্রন ত্যাগ করার তীব্র প্রবণতাকে কাজে লাগিয়ে প্রথম কার্যকর লিথিয়াম ব্যাটারি তৈরি করলেন।

১৯৮০ সালে জার্মানির জন গুডইনাফ গবেষণা করে হুইটিংহ্যামের ব্যাটারির ক্ষমতা দ্বিগুণ করতে সফল হলেন। তিনি এমনভাবে ব্যাটারিটি নতুন করে তৈরি করলেন যে লিথিয়াম ব্যাটারি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠল।নোবেল-রসায়নে নোবেল-রিচার্জেবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি

এরপর ১৯৮৫ সালে জাপানি রসায়নবিদ আকিরা ইয়োশিনো ব্যাটারির কাঠামো থেকে বিশুদ্ধ লিথিয়াম সরিয়ে তার বদলে সরাসরি লিথিয়াম আয়ন বসিয়ে দিলেন। এর ফলে এক দিকে লিথিয়াম থেকে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ব্যাটারির মধ্যে আয়ন তৈরি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়াটির দরকার হলো না, অন্যদিকে অতি সক্রিয় বিশুদ্ধ লিথিয়ামের বদলে আয়ন ব্যবহারের ফলে ব্যাটারিগুলো অনেক বেশি নিরাপদ হয়ে গেল।

শুধু তাই নয়, ব্যাটারির মধ্যকার বিদ্যুৎ প্রবাহের দিক পাল্টে দিয়ে কোনো বিদ্যুৎ উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিলে, সেটি কোনো কিছু চার্জ করে চালু করার বদলে উল্টো নিজেই চার্জ হওয়া শুরু করল। আর এই রিচার্জেবল ব্যাটারিগুলোর আয়ুও অনেক।

নতুন এই লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি মানবজাতির জীবনকে পাল্টে দিয়েছে। আর এরই স্বীকৃতি হিসেবে গুডইনাফ, হুইটিংহ্যাম এবং ইয়োশিনো যৌথভাবে পেলেন এ বছরের রসায়নে নোবেল।

পুরস্কারের অর্থমূল্য বিজয়ী তিনজনের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হবে।

বিষয়:২০১৯ সালের নোবেলরসায়নে নোবেললিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…