ইবাদত কেনো দলে— সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিটি টেস্টে আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে প্রশ্নটি। কথা ওঠাও স্বাভাবিক ছিল। মাউন্ট মঙ্গানুইতে ইতিহাস গড়ার আগে ১০ টেস্টে কেবল ১১ উইকেট নিতে পেরেছিলেন ডানহাতি পেসার। ওভারপ্রতি রানখরচ ও স্ট্রাইকরেটে ছিলেন হতশ্রী!
সেই ইবাদত বনে গেলেন কিউই বধের নায়ক। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের নাকানি-চুবানি খাওয়ানো, তাদেরই মাটিতে। ৩২ ম্যাচ পর এলো কিউই ডেরায় বহুল আকাঙ্ক্ষিত জয়। প্রায় ৯ বছর অপেক্ষার পর বাংলাদেশের কোনো পেসার পেলেন ইনিংসে ৫ উইকেটের স্বাদ।
সবশেষ ২০১৩ সালে বাংলাদেশের কোনো পেসার টেস্টে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। জিম্বাবুয়ে সফরে দুই টেস্টেই ৫টি করে উইকেট পকেটে পুরেছিলেন রবিউল ইসলাম। এরপর কেটেছে নয়টি বসন্ত, চলছিল খরা। গেল বছর ভারত সফরে অনেকটা কাছে গিয়েছিলেন আবু জায়েদ রাহি। ক্যাচ মিসের মহড়ায় ৪ উইকেটেই থামতে হয়েছিল তাকে।
এবার তেমন কিছু ঘটল না। আক্ষেপ ও অপেক্ষা ঘুচিয়ে ২১ ওভারে ৪৬ রানের বিনিময়ে ৬ কিউই ব্যাটারকে শিকার করলেন ইবাদত। টেস্টের হিসেবে ৪৭ ম্যাচ পর হলেন ফাইফার। তার ৬ উইকেট এমন এক পরিস্থিতিতে নেয়া, যা হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়ের একটি।
ইবাদতের ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স আরেকটি মাইলফলক ছুঁয়েছে। কিউই বধে তার বোলিং ফিগার দেশ-বিদেশ মিলিয়ে টাইগার পেসারদের দ্বিতীয় সেরা। ২০০৮ সালে ঢাকায় সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তো বটেই বিদেশে বাংলাদেশের পেসারদের সেরা বোলিং এখন ইবাদতের ৬/৪৬।







