শিক্ষা

রঙিন মুখ নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়

ফেসবুক

নতুন বইয়ের ঘ্রাণে যেন ম-ম করছে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিল। আর ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সেই বই নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে।

সেখানে প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাংলা বইতে প্রকাশিত পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের লেখা কবিতা নিয়েও চলছে প্রবল আলোচনা। এর আগে ছাপা হওয়া বইতে সংক্ষেপিত কবিতাটির শেষের লাইনে, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’ লেখা থাকলেও এবছর ছাপা হওয়া বইতে দেখা যায় সেখানে লেখা রয়েছে, ‘পাকা জামের শাখায় উঠি রঙিন করি মুখ।” কেউ কেউ প্রবলভাবে বিরোধিতা করছেন এমন একজন কবির মৌলিক লেখায় পরিবর্তন আনার কারণে।

ফেসবুকে অনেকেই প্রথম শ্রেণীর বাংলা বইয়ের দুটি ছবি তুলে দিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কোনটা সঠিক? এতদিন ধরে যেটা পড়া হয়ে এসেছে সেটা, নাকি এবছর যেটা ছাপানো হয়েছে। তাতে মতামতও আসছে একেকজনের একেক রকম।

তবে কারো মৌলিক লেখা পরিবর্তন করা ঠিক নয় জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকউল্লাহ খান বলেন, ছোটবেলায় কবিতাটা পড়েছি। তখন থেকেই জানি, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করি মুখ’। তাহলে কি এতদিন ভুল জানতাম? একজন লেখকের মৌলিক লেখা কেউ কখনো পরিবর্তন করতে পারে না। পরিবর্তন করলে সেটা ওই কবির প্রতি অসম্মান করা হয়।

‘এর আগেও বেশ কিছু লেখা পরিবর্তন আনা হয়েছে, নজরুলকে নিয়েও এমন হয়েছে। কিন্তু জসীম উদ্‌দীনের কবিতাগুলোর মূল টেক্সটা আমাদের কাছে নেই। ফলে কখনোই জানা যায়না, আসলে কবি কোনটি লিখেছেন। বা তিনি কোনো পরিবর্তন করেছিলেন কিনা। তার কোনো রচনাবলী বের হয়নি, সেগুলো এখনো তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে। ফলে ক্রসচেক করারও সুযোগ নেই।’

তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এনসিটিবির প্রাইমারী উইংয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, এই বইটির সম্পাদনা, রচনা ও সঙ্কলন হয়েছে ২০১৩ সালে। তখন থেকেই পাঠ্যবইটি চলছে। এবার বইটিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো ক্রসচেক করেই আনা হয়েছে। যেটা সঠিক সেটাই দেওয়া হয়েছে।

তবে এনসিটিবির চেয়্যারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা এখনো বইগুলো দেখেননি জানিয়ে বলেন, বইগুলোর সবগুলো সব শিক্ষকরা দেখবেন। তারপরে কোনো ভুল থাকলে জানাবেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিবো।

সবার জন্য পুরো কবিতাটি এখানে তুলে ধরা হলো:

মামার বাড়ি
জসীমউদদীন

আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা,
ফুল তুলিতে যাই
ফুলের মালা গলায় দিয়ে
মামার বাড়ি যাই।

মামার বাড়ি পদ্মপুকুর
গলায় গলায় জল,
এপার হতে ওপার গিয়ে
নাচে ঢেউয়ের দল।

দিনে সেথায় ঘুমিয়ে থাকে
লাল শালুকের ফুল,
রাতের বেলা চাঁদের সনে
হেসে না পায় কূল।

আম-কাঁঠালের বনের ধারে
মামা-বাড়ির ঘর,
আকাশ হতে জোছনা-কুসুম
ঝরে মাথার ‘পর।

রাতের বেলা জোনাক জ্বলে
বাঁশ-বাগানের ছায়,
শিমুল গাছের শাখায় বসে
ভোরের পাখি গায়।

ঝড়ের দিনে মামার দেশে
আম কুড়াতে সুখ
পাকা জামের শাখায় উঠি
রঙিন করি মুখ।

কাঁদি-ভরা খেজুর গাছে
পাকা খেজুর দোলে
ছেলেমেয়ে, আয় ছুটে যাই
মামার দেশে চলে।

বিষয়:ফেসবুক
প্রতিবেদক

শর্মিলা সিনড্রেলা

নিউজরুম এডিটর চ্যানেল আই অনলাইন।

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…