ফরহাত আহমেদ: বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় আজ বিশ্বের মানুষের হাতে হাতে অত্যাধুনিক সব স্মার্টফোন। স্মার্টফোন বর্তমান মানব সভ্যতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাড়িয়েছে। বিশ্বে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে এর ব্যবহার। স্মার্টফোনের স্মার্ট ব্যবহারের পাশাপাশি এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে।
আমরা জানি যে স্মার্টফোন থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়। মূলত মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতেই স্মার্টফোনের অ্যান্টেনা থেকে রেডিয়েশন নির্গত হয়ে থাকে। মূলত মোবাইল ফোনের ভয়েস বা ডাটা আদান-প্রদানের জন্য উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ফিল্ডের ব্যবহার হয়।
এবিষয়ে জার্মানির প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবপোর্টাল ইনসাইডহ্যান্ডি’কে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ স্টেফ্যান উইনোপ্যাল বলেন, “যে সকল স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ফোনে বেশি কথা বলেন, তাদের ফোন থেকে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক বিকিরণ নির্গতের পরিমাণ বেশি হয়।” তিনি আরো বলেন, “বিকিরণ মূলত মোবাইল ফোন এবং মোবাইল টাওয়ারের মধ্যে সংকেত পাঠানোর সময় উৎপন্ন হয়।”
একটি মোবাইল ফোন থেকে ঠিক কী পরিমাণে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক বিকিরণ উৎপন্ন হয় তার একটি নির্দিষ্ট মানদন্ড রয়েছে। টাওয়ারের বিকিরণ ও মোবাইল ফোনের সেই বিকিরণ গ্রহণের মাত্রা বা স্পেসিফিক অ্যাবজর্পশন রেট বা এসএআর-এর ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি। আর এটি পরিমাপ করা হয় প্রতি কিলোগ্রাম-ওয়াটে।

এ প্রসঙ্গে উইনোপ্যাল বলেন, “এসএআর উষ্ণতার পরিমাণ নির্দেশ করে ঠিক তখনই যখন এই বিকিরণকে শোষণ করে টিস্যু। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আইওনাইজিং রেডিয়েশন প্রটেকশন অনুযায়ী মোবাইল ফোনের বিকিরণ গ্রহণের মাত্রা প্রতি কিলোগ্রামে ২ ওয়াটের বেশি হতে পারবে না। রেডিয়েশন সুরক্ষায় ১৯৯৮ সালে মোবাইল ফোনের সর্বোচ্চ বিকিরণ গ্রহণের এই সর্বোচ্চ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন কোন স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আইওনাইজিং রেডিয়েশন প্রটেকশনের বেঁধে দেয়া বিকিরণ গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রার মধ্যে থেকে ডিভাইস তৈরি করে।
সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে, এবছরের আলোচিত স্মার্টফোনগুলো থেকে প্রতি কিলোগ্রামে রেডিয়েশন নির্গতের পরিমাণ ১.৩৮ ওয়াট ০.৯৬ ওয়াট। যা মোটামুটি সহনীয় মাত্রায়। তবে কিছু নিম্নমানের ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনে রেডিয়েশন মাত্রা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
বাংলাদেশে যে সব দেশীয় এবং বহুজাতিক অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যবসা করছে তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর অনুমোদন নিয়েই বাজারজাত করে থাকে। বিটিআরসি-এর অনুমোদন পেতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই হ্যান্ডসেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট বা পরীক্ষার রির্পোর্ট জমা দিতে হয়। জমাকৃত রিপোর্টগুলো মধ্যে রেডিয়েশন সংক্রান্ত রিপোর্টও বিদ্যমান। এ সকল রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিটিআরসি প্রতিষ্ঠানগুলোকে হ্যান্ডসেট বাজারজাত করার অনুমোদন দেয়।
তবে চোরাইপথে ও লাগেজপার্টির মাধ্যমে নন-ব্র্যান্ডের যেসব ফোন দেশের বাজারে আসে, সেগুলো মোবাইল ফোন গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তবে ক্রেতাদের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, তারা যে ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের হ্যান্ডসেট ক্রয় করুক না কেনো তা যেনো হয় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত দোকান, শোরুম কিংবা ব্র্যান্ড শপ থেকে। তবেই স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা এড়িয়ে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যাবে পছন্দের স্মার্টফোনটি।







