অর্থনীতি

ব্রেক্সিট: যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমেছে, খুচরা বিক্রি বেড়েছে

ব্রেক্সিট: যুক্তরাজ্যে অভিবাসন কমেছে, খুচরা বিক্রি বেড়েছে

গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে আসার পক্ষে রায় দেয়ার পর ব্রিটেনে অভিবাসন কমেছে। কিন্তু ব্রেক্সিটপন্থীরা যে পরিমাণ অভিবাসন কমার আশা করেছিলেন, তা হয়নি। তবে এই সময়ে দেশটিতে বেড়েছে খুচরা বিক্রি। আপাত দৃষ্টিতে ব্রিটেন কিছুটা লাভবান হলেও  ব্রেক্সিট অনেক দেশের ব্যবসা ও রেমিটেন্সে প্রভাব ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ থিংকস ট্যাঙ্ক কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের বছরগুলোর তুলনায় অভিবাসন কমেছে। গত বছরের তুলনায় এবার ৯,০০০ কম অভিবাসী ব্রিটেনে প্রবেশ করেছেন।

ফিন্যান্সসিয়াল টাইমস ও বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবার রেকর্ড তৃতীয় সর্বোচ্চ অভিবাসী ব্রিটেনে ঢুকেছে। এর পরিমাণ ৩ লাখ ২৭ হাজার। এর আগে ২০১৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার। আর তার আগের বছর রেকর্ড ৩ লাখ ৩৬ হাজার অভিবাসী ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিল।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ২০২০ সালের মধ্যে অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ব্রেক্সিট গণভোটের পর চলতি মাসে ব্রিটেনের বাজারে খুচরা বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত শিল্প পরিসংখ্যানের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই বিক্রির পরিমাণ গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

ব্রিটিশ শিল্প কনফেডারেশন জানিয়েছে,  খুচরা বিক্রয় পরিমাণের সূচক +৯ বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারির পর এটা সর্বোচ্চ। গত ফেব্রুয়ারি-জুলাইতেও এই সূচক ছিল -১৪।

আগামী সেপ্টেম্বরে চলতি মাসের বিক্রয় সূচক +৯ থেকে আরো +৩ সূচক বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ শিল্প কনফেডারেশনের প্রধান অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সার্ভেয়ার আন্না লেস বলেন, ‘গ্রীষ্মের এই সময়ে খুচরা বিক্রয় বেশ বেড়েছে এবং আগামী ‍মাসে এর পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।’

আপাত
দৃষ্টিতে ব্রিটেন কিছুটা লাভবান হলেও  ব্রেক্সিট অনেক দেশের ব্যবসা ও
রেমিটেন্সে প্রভাব ফেলেছে। ব্রেক্সিটের প্রভাবে গত দু’মাসে ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির  দেশ জার্মানিতে  পড়তি ভাব দেখা গেছে। জার্মানি ও বিশ্ব অর্থনীতিবিদদের ধারণার চেয়ে অনেক কম গতি দেখা গেছে দেশটির অর্থনীতিতে।

মিউনিখ ভিত্তিক অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউট ‘বিজনেস ক্লাইমেক্স ইনডেক্স’ মাসিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,  জার্মানির ৭০০০ হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে অর্থনীতির সূচক কমে গেছে। এতে দেখা যায়, জুলাইতে যেখানে সূচক ছিল ১০৮ দশমিক ৩ সেখানে আগষ্টে সূচক দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ২। অথচ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পূর্বাভাস ছিল ১০৮ দশমিক ৫।

এদিকে, ব্রেক্সিটের প্রভাবে অনেক দেশের রেমিটেন্সেও টান পড়েছে। কাজ হারানো এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম পড়ে যাওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে। রেমিটেন্স টানের খবর প্রথম প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। দেশটির ইংরেজি দৈনিক ডনের এক প্রতিবেদনে রেমিটেন্স কমা নিয়ে এক দীর্ঘ প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

ডনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রেক্সিট বিষয়ে গণভোটের পরের দিন ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম ৯ শতাংশ কমে যায়। আর পাকিস্তানি রুপিতে যার পরিমাণ ১৩ শতাংশ।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরাতে ডন জানায়, জুনের ব্রিটেন থেকে আসা রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ৩০৯ মিলিয়ন রুপি। জুলাইতে সেটা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৪৩ মিলিয়ন রুপিতে।

বিষয়:ব্রেক্সিট
প্রতিবেদক

রেজাউল করিম

রেজাউল করিম

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…