আকাশপথের নিরাপত্তা পৃথিবীর সবদেশে সবোর্চ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়। কিন্তু গত আটদিনের ব্যবধানে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দু’টি ঘটনা জনসাধারণের মনে নিরাপত্তার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে ঘটে যায় একটি মারাত্মক ঘটনা। বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং-৭৩৭ মডেলের ময়ূরপঙ্খী উড়োজাহাজটি ১৪২ জন যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাচ্ছিল। হঠাৎ বুকে বোমা বাঁধা আছে দাবি করে এক অস্ত্রধারী প্রধানমন্ত্রীসহ তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দাবি করে বসে। ওই অস্ত্রধারী একজন কেবিন ক্রুকে জিম্মি করে। পরে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী র্যাব, পুলিশ, নৌ ও সেনাবাহিনীর যৌথ কমান্ডো অভিযানে এ অবস্থার অবসান হয়।
আট দিনের ব্যবধানে একই বিমানবন্দরে আরেকটি ঘটনা। এই ঘটনায় গুলিসহ আসল পিস্তল নিয়ে আরেকজন যাত্রী ব্যাগ স্ক্যানিং ও নিরাপত্তা তল্লাশি পার হলেন, বিষয়টা ধরা পড়েনি। পরপর দুটি ঘটনা দেশের প্রধান বিমানবন্দর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
প্রথম ঘটনায় পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে প্রত্যাহার করা হয়। একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। দেশের সব বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আমাদের চিন্তার বিষয় হচ্ছে, প্রথম স্ক্যানিংয়ে কেন অস্ত্রটি ধরা পড়ল না। এটা কোনো সন্ত্রাসী বা জঙ্গিও হতে পারত। তখন পরিস্থিতি কী হতো?
নিরাপত্তার প্রশ্নে বিমানবন্দরের গফিলতি বা দোষ স্বীকার না করে উল্টো বেবিচক বলছে: শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টার্মিনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা অত্যন্ত সুসংহত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য। নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তা না করতে এবং বিভ্রান্ত না হতে সবার প্রতি অনুরোধ করা হয়েছে।
আমাদের প্রশ্ন হলো- বিমানবন্দরের নিরাপত্তা স্ক্যানিংয়ের মধ্যেও কিভাবে এই রকম অস্ত্র নিয়ে বিমানে উঠতে পারে? এরকম যেকোনো ঘটনাই মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারত যেকোনো সময়। জানমালের ক্ষতিসহ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এভাবেই হয়। কিন্তু বিমানবন্দরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কিভাবে এই ধরনের দু’টি ঘটনা পরপর ঘটতে পারে?
কর্তৃপক্ষের মারাত্মক অব্যবস্থাপনায় বিমানবন্দর ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমরা আশা করি, বিমানে পিস্তল নিয়ে ওঠা প্রসঙ্গে অহেতুক বাকবিতণ্ডা না করে দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হোক। সাধারণ যাত্রীদের শঙ্কা দূর হোক।







