অন্যান্য

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় শিক্ষক নিয়োগের তোড়জোড়

বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় শিক্ষক নিয়োগের তোড়জোড়

যোগ্য প্রার্থীদের না জানিয়ে, কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের দু’জন নতুন প্রভাষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তা-ই নয় বিজ্ঞপ্তি ছাড়া কিভাবে ওই ২জন নিয়োগের জন্য আবেদন করার তথ্য পেলেন তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে এভাবে শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের সুপারিশকে অনিয়ম বলে মনে করেন বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে চাওয়া একাধিক সাবেক শিক্ষার্থী।

যোগ্য হয়েও সুযোগ বঞ্চিত নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়, ৫ অক্টোবর শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগে সহকারি অধ্যাপক পদে দুইজন প্রভাষককে পদোন্নতি দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) ড. নাসরীন আহমাদ, অনুষদের ডিন নিসার হোসেন, বিভাগের চেয়ারপার্সনসহ ২ জন শিক্ষকের সমন্বয়ে গঠিত বোর্ডে মৌখিক পরীক্ষার পর তাদের সহকারি অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত হয়। দুই প্রভাষকের পদোন্নতি হওয়ায় প্রভাষকের দু’টি পদ খালি হওয়ায় সেদিনই শুন্য পদে ২জনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।’

এখানেই যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে অনিয়ম হয়েছে বলে মনে করেন শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সহকারি অধ্যাপকদের একজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই অধ্যাপক চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন,‘ সহকারি অধ্যাপক পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে দু’জন প্রভাষককে পদোন্নতি দিয়ে সহকারি অধ্যাপক করা হয়েছে। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও শুন্য পদে প্রভাষক নিয়োগের কথা বলা হয়নি। অথচ দু’জন প্রভাষকের পদোন্নতির পর শুন্য পদে একই দিন একই বোর্ড কিভাবে শিল্পকলার ইতিহাস বিভাগের সবাইকে না জানিয়ে দু’জনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ আবেদন করতে বললো এবং নিয়োগের সুপারিশ করলো তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক’।

বঞ্চিত সাবেক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা হঠাৎ শুনলাম বিভাগে ২জন প্রভাষক নিয়োগের সুপারিশ হয়ে গেছে। অথচ আমাদের কোনোভাবে জানানো হয়নি। অথচ যোগ্যতার মাপকাঠিতে এটা জানতে পারা আমাদের অধিকার’।

অনিয়মের এমন অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাবি’র চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,‘ প্রশাসনের অংশ হিসেবে আমি ৫ অক্টোবরের বোর্ডে ছিলাম। ‘অনিয়মে’র অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তবে জানিয়ে রাখা ভালো যে, নিয়োগ বোর্ডে দ্বিমত পোষণ করার সুযোগ থাকে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতেই নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। সে হিসেবে ন্যায় হয়েছে না অন্যায় হয়েছে তা নিয়ে কিছু বলার নেই। এই বোর্ডের সুপারিশ এখন উপাচার্য এবং সিন্ডিকেটের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। সে পর্যায়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে’।

যোগ্য শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ নিয়ে এখনি কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। জানিয়েছেন বোর্ডের সুপারিশ ফাইল হাতে এলে এনিয়ে কথা বলবেন তিনি।

বিষয়:ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ঢাবি চারুকলা
প্রতিবেদক

নাসিমুল শুভ

নাসিমুল শুভ, অনলাইন জার্নালিস্ট, চ্যানেল আই।

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…