উয়েফা নেশনস লিগে যত এগোচ্ছে ম্যাচের পর ম্যাচ নিজেদের সেরাটা দিচ্ছে নেদারল্যান্ডস। পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার জন্য এক পয়েন্ট দরকার ছিল ডাচদের। কেন না গ্রুপের অন্য দল তথা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের পয়েন্ট ইতিমধ্যেই সাত ছিল। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জার্মানির বিরুদ্ধে কোনোভাবেই হারলে চলত না। তবে পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় ভাবে ম্যাচে কামব্যাক করেছে ডাচরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও পাঁচ মিনিটের এক ঝড়ে ড্র করে কোম্যানের দল।
এই হারে কোচ জোয়াকিম লো’র উপর চাপ ক্রমশই বাড়বে। ডাচদের বিপক্ষে ড্র’য়ের ফলে গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় জয়হীন থাকল জার্মানরা।
টানা পাঁচ ম্যাচে জয়হীন জার্মানি। ৯৭৮ সালের পর এমন অবস্থা হয়নি ‘কাইজারদের’। এর মধ্যে তিনটি ড্র ও দুটি হার। গোল খরা রীতিমতো ভোগাচ্ছে জার্মানদের। সবশেষ সাত ম্যাচে তারা সব মিলিয়ে গোল করতে পেরেছে পাঁচটি।
অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও ম্যাচ পজেশনে জার্মানদের থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। অবশ্য ঘরের মাঠে ৯ মিনিটের মাথায় টিমো ওয়ার্নারের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। জার্মানির কাছে এই ম্যাচ ছিল নিয়মরক্ষার। ফলে হারলেও কিছু এসে যেত না। এগিয়ে গিয়ে চাপ বাড়াতে থাকে তারা। যার ফল ১০ মিনিটের ব্যবধানে আবার গোল। দলের হয়ে ব্যবধান বাড়ান লিরয় সানে। বিরতির আগে আরো একবার ব্যবধান বাড়াতে পারতেন তারা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া জিনাবরির।
তবে বিরতির পর কিন্তু আক্রমণে চাপ বাড়ায় কমলা-ব্রিগেড। যখন সবাই ধরেই নিয়েছেন যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাচ্ছে ডাচরা, ঠিক তখনই নাটকীয় পট-পরিবর্তন। ৮৫ মিনিটে দলের হয়ে ব্যবধান কমান কুইন্সি প্রোমস। শেষপর্যন্ত চাপ রাখার ফল পেয়ে যায় তারা। ৯০ মিনিটে দুর্দান্ত ভলিতে দলের হয়ে সমতা ফেরান অধিনায়ক তথা তারকা খেলোয়াড় ভ্যান ডাইক।
এক পয়েন্ট পেয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে সমসংখ্যক পয়েন্ট দাঁড়ায় নেদারল্যান্ডসের। তবে গোল ব্যবধানে অনেকটা এগিয়ে থাকার সুবাদে, পরবর্তী রাউন্ডে নেদারল্যান্ডস। আগের ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফরাসিদের ২-০ হারায় ডাচরা।
রাতের অন্য ম্যাচে স্লোভাকিয়াকে ১-০ গোলে চেক প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাসকে ২-০ গোলে নরওয়ে, কাজাখস্তানকে ২-১ গোলে জর্জিয়া ও জিব্রাল্টারকে ৪-০ গোলে হারায় মেসিডোনিয়া। এছাড়া ডেনমার্ক-আয়ারল্যান্ড গোলশূন্য, একই ব্যবধানে অ্যান্ডোরা-লাটভিয়া, বুলগেরিয়া-স্লোভেনিয়া ১-১ এবং লিশটেনস্টাইন-আর্মেনিয়া ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র হয়।









