বুধবার জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারের রাজপথ দখলে নেয় দেশটির সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধানের দুর্নীতি নির্মূলের ঘোষণাকে দেশটির ক্ষমতাসীন দল ‘রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ বলার পরেই এই পরিস্থিতি দেখা দেয়। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি কিছু স্বীকার করা হয়নি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার থামিয়ে প্রধান সেনা কর্মকর্তা সিবুসিসো মোয়ো জানান যে প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও তার পরিবারের সব সদস্য নিরাপদে আছেন এবং প্রেসিডেন্টের আশপাশে থেকে যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করতেই সেনাবাহিনী ব্যারাক ছেড়েছে।
জনসম্মুখে মুগাবে
শুক্রবার রাজধানী হারারেতে স্নাতক শ্রেণির একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুগাবে। গত কয়েকদিন ধরে তিনি গৃহবন্দী ছিলেন। গৃহবন্দীর পর প্রথমবার জনসম্মুখে রবার্ট মুগাবেকে জনসম্মুখে দেখা যায়। শুক্রবার রাজধানী হারারেতে স্নাতক শ্রেণির একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।
ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ মুগাবে
সেনাবহিনী জানিয়েছে মুগাবের সঙ্গে তারা কথা বলেছে এবং শীঘ্রই আলোচনার ফলাফল পাওয়া যাবে। তবে সেনা শাসনের তৃতীয় দিনে এসেও ক্ষমতা ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুগাবে। সেনাবাহিনীর চাপে পদত্যাগ করতেও অস্বীকৃতি জানান তিনি। মুগাবে গত সপ্তাহে ভাইস প্রেসিডেন্ট ম্যানগাগওয়াকে বরখাস্ত করেন। ধারণা করা হচ্ছিল মুগাবে তার স্ত্রীকে দলের প্রধান ও প্রেসিডেন্ট করার পরিকল্পনা করছিলেন। এরপরই দেশের কর্তৃত্ব নেয় সেনাবাহিনী।
সেনা শাসন দেখতে চাননা বিরোধী দলীয় নেতা মরগান
অন্যদিকে মুগাবের পদত্যাগ চেয়ে বক্তব্য দিলেও সেনা শাসন দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা মরগান ভেঞ্জেরাই। বিরোধী দলের নেতা বলেন, জনগণের স্বার্থে মুগাবেকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে এবং ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। জিম্বাবুয়েতে বর্তমানে একটি বৈধ প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
এখনও মুগাবেকে কমান্ডার ইন চীফ বলে ডাকছে সেনাবাহিনী
এখনও প্রেসিডেন্ট মুগাবেকে ‘হিজ এক্সিলেন্সি’, প্রেসিডেন্ট এবং কমান্ডার ইন চীফ বলে সম্বোধন করছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ থেকে এটি বোঝা যাচ্ছে যে ক্যু সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এমনটি করা হচ্ছে। ১৯৭০ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার পর থেকে দেশটির অধিকাংশ নিরাপত্তারক্ষা বাহিনীর প্রধানরা মুগাবের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রায় ৪৭ বছরের বেশি এই সম্পর্ককে হঠাৎ করে অস্বীকার করাটা উভয় পক্ষের জন্যই বেশ কঠিন।
পদত্যাগ করতে নানামুখি চাপের মুখে মুগাবে
পদত্যাগ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য নানামুখি চাপ সামলাতে হচ্ছে মুগাবেকে।দুইজন আফ্রিকান নেতা মুগাবেকে ক্ষমতা থেকে সড়ে দাঁড়াতে পরামর্শ দিয়েছেন। সংকটের আইনি সমাধান চেয়েছে চীন। দেশটির যুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া প্রবীণ নেতা ক্রিস্টোফার মুটসভাঙওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, ‘প্রেসিডেন্ট মুগাবে ও তার স্ত্রী শেষ হয়ে গেছেন, এখন তাদের পদত্যাগ করা উচিত।’ দেশটির ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির আঞ্চলিক এক প্রধান নেতা প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাসন থেকে ফিরলেন বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট
দেশটির প্রাক্তণ ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমারসন এমনাংগাওয়া দেশে ফিরেছেন বলে এএফপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। যাকে বহিষ্কার করার পর পরই সেনাবাহিনী ক্ষমতা গ্রহণ করার ঘটনা ঘটে। তবে দ্বিতীয় কোন মাধ্যমের দ্বারা এই তথ্যের সত্যতা যাচাই সম্ভব হয়নি। মুগাবে ও তার স্ত্রী জিম্বাবুয়েকে তাদের নিজস্ব সম্পদে পরিণত করেছে এমন অভিযোগ করে তিনি গত ৮ নভেম্বর দেশ ছাড়েন। তাকে বরখাস্ত করে মুগাবে তার স্ত্রীকে তার জায়গায় আনতে চেয়েছিলেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে।
আইনি সমাধান চায় চীন
চলমান সংকটকে আইনিভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে চীন। ১৯৭০ সালের যুদ্ধের সময় দেশটিকে নানাভাবে সহায়তা করেছিলো চীন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে সবাইকে আলোচনা করে সংকটের সমাধান করতে হবে।
সেনাসদস্যরা এখনও রাস্তা ছাড়েননি
প্রেসিডেন্টকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যেতে দিলেও তার পাশে প্রেসিডেনশিয়াল গার্ড টিমের সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলো। এছাড়া জিম্বাবুয়ের রাস্তায় এখনও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাজধানীর রাস্তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন নির্দেশনা সম্বলিত পোস্টার দেখা যাচ্ছে।
মুগাবেকে জানু-পিএফ পার্টির অভিশংসনের হুমকি
ক্ষমতাসীন জানু-পিএফ পার্টির নেতারা খুব শীঘ্রই একসঙ্গে বসবেন। যদি মুগাবে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করে তাহলে তাকে অপসারণে অভিশংসনের পথে হাঁটবেন তারা। এ জন্য সভার আয়োজন করে খসড়া পদ্ধতি ও করণীয় ঠিক করা হবে।
বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বললেন জাতিসংঘ প্রধান
প্রেসিডেন্টকে বাসায় আটক করার ঘটনাকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনি গুতরেস বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বলে অভিহিত করেছেন। পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনী রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক এমন অবস্থা আমরা প্রত্যাশা করি না, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমার কাছে বেশ বিভ্রান্তিকর বলে মনে হচ্ছে। আমি আশা করছি বিনা রক্তপাতে সংকটের সমাধান হবে।এই ঘটনার একটি রাজনৈতিক এবং গণতান্ত্রিক উপায়ে হতে হবে যাতে সামনের নির্বাচনে জিম্বাবুয়ের জনগণ তাদের নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই নির্ধারণ করতে পারেন।








