বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি সম্পন্ন এই অভিনেত্রী ৩০ জুলাই পা রাখলেন ৬৫ বছরে। জন্মদিনে বাংলার অগনিত সিনেমা প্রেমী মানুষের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষেরাও সোশাল মিডিয়াতে ‘মিস লঙ্কা’ খ্যাত প্রিয় এই নায়িকাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। যদিও জন্মদিনে তিনি বাংলাদেশে নেই। আছেন একমাত্র ছেলের সঙ্গে সুদূর কানাডায়।
সম্প্রতি কলকাতায় টেলি-সিনে অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তির পর চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন ববিতা। তাঁর জন্মদিনকে উপলক্ষ্য করে সেই সাক্ষাৎকার থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্র নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ ও বাংলা চলচ্চিত্রের সাথে তার অভিমানের কথা বলা অংশটুকু দেয়া হলো:
সিনেমায় আশাবাদী…
আমি আসলে সব সময় আশাবাদী। অভিনয় করে কী পেয়েছি না পেয়েছি এটা আমার বলা লাগবে না। আপনারাই ভালো জানেন। তো সেজন্যই আমাদের রেখে যাওয়া অবস্থা থেকে এখন যা হচ্ছে সেটা কতোটা ঠিক হচ্ছে! ভালো ছবি হচ্ছে না এমন না, কিছু ছবিতো হচ্ছেই। কিন্তু সব ধরনের ছবি ভালো হওয়া উচিত ছিলো। আরো ভালো আশা করেছিলাম। আমাদেরতো একদিন ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দিতে হবে, আমরাতো আর চিরকাল থাকবো না। আমরা যাবো, নতুনরা আসবে এটাই নিয়ম। কিন্তু চেয়েছিলাম আমাদের সময়ের চেয়ে আরো ভালো ভালো ছবি নির্মাণ হবে। কিন্তু সে জিনিষটাতো হচ্ছে না। এজন্য একটু খারাপ লাগে। তবে আমি চূড়ান্ত রকমের আশাবাদী, একদিন ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে আমাদের ইন্ডাস্ট্রি।
সিনেমায় অভিমান…
আমি একটু অভিমান করে চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে আসছি। কারণ আমরা যে সমস্ত কাজ করে আসছি এতো বছর ধরে তাতো এখনো এই বয়সে করা সম্ভব না। আর যেনোতেনো চরিত্রে যদি অভিনয় করতে বলা হয়, তাহলে ববিতা কী তাই করবে! বা আমরা যারা সিনিয়র শিল্পীরা আছি তাদেরকে যে চরিত্রে বলবে তাই করতে পারি? সিনিয়ররা কি যেনোতেনো চরিত্র করবেন? নিশ্চয় করা উচিত হবে না। বরং তার চাইতে আমি মনে করি, দূরে সরে থাকাই ভালো। আমরা যারা আছি, তারা যদি আমাদের মতো কাজ না পাই, সেরকম ছবি, সেরকম চরিত্র, সে রকম গল্প না পাই তাহলে কি কাজ করা সমিচিন হবে? বয়স কোনো ফেক্টর না। গল্পের নায়িকা মানেই যে শুধু নাচ গান করবে, তরুণী হতে হবে তা কিন্তু না। আপনি দেখেন, ক’দিন আগেই শ্রীদেবী করলো ‘মম’ ‘ইংলিশ ভিংলিশ’, তো এগুলোতে শ্রীদেবী কি কোনো নাচ করা নায়িকা? বা অমিতাভ বচ্চন, রেখা তারা যে এখনো নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তারা কি যেনোতেনো চরিত্রে অভিনয় করছেন! তো এরকম চরিত্র প্রধান গল্পতো আমাদের থাকতে হবে। না থাকলে সেটা তৈরি করতে হবে। এরকম না হলেতো আমাদের আশা করে কোনো লাভ নেই। আর আমাদের প্রাধান্য দিয়ে এরকম চরিত্র তৈরি করলে আমরা অবশ্যই ছুটে আসবো। সেরকমতো হয় না, হচ্ছে না।
এখনতো আমাদের এখানে নাচ গান আর মারপিটের ছবি ছাড়া কিছু দেখি না। দেখা গেলো নায়কের মায়ের চরিত্রে ছোট্ট একটা রোলে আমাকে অভিনয় করতে বলা হলো, বা আলমগীর সাহেব, ফারুক সাহেবকেও বাবার চরিত্রে ছোট্ট রোলে অভিনয় করতে বলা হলো। তো আমি বা আমরা কেনো করবো এগুলো? এমন সব চরিত্রে অভিনয় করা কি ঠিক হবে? মোটেও ঠিক হবে না। এজন্যই আমরা দূরে সরে আছি। কারণ এখনতো সব চেঞ্জ হয়েছে। এখন যারা যা বানাচ্ছেন তাদের মতো করেই বানাচ্ছেন। সেখানে হয়তো আমাদের করণীয় কোনো চরিত্র নাই। কি আর করার! সে রকম ইম্পোর্টেন্ট চরিত্র যদি না থাকে তাহলে আমরা কি করবো? চ্যালেঞ্জিং রোল না থাকে তাহলে কাজ করার আর প্রয়োজন নেই। অন্তত আমি মনে করি না।
সিনেমায় কি ফিরবেন…?
অবশ্যই, অবশ্যই। কেনো নয়! আমিতো অভিনয় চালিয়েই যেতে চাই। শুধু তাই নয়, আমার কিন্তু একটা গুণ ছিলো। আজকে আমি যা অর্জন করেছি আমি সেগুলো কিন্তু ভালো ছবি করার জন্যই করতে পেরেছি। ভালো ছবি গুলোতে অভিনয় করে আমি অনেক সময় কোনো পারিশ্রমিক পর্যন্ত নেইনি। বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। কারণ, চলচ্চিত্রের জন্য আমার প্রচণ্ড রকম ভালোবাসা কাজ করে। আমি চাই চলচ্চিত্রে আমাদের সামাজিকতা, আমাদের দেশের কৃষ্টি কালচার উঠে আসুক। বক্তব্য ধর্মী ছবি হোক। এরকম ছবিতে কাজ করার জন্য আমি বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি। তো আগে যখন বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি, এই সময়ে এমন চরিত্র পেলে এখনো আমি সেই মন মানসিকতা রাখি। ভালো চরিত্র পেলে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে আমার আপত্তি নেই। তার আগে সেরকম লিখতে হবে, সেরকম চিত্রনাট্য আমার কাছে আসতে হবে। না আসলেতো আমি শুধু বললেই হবে না।
ছবি: তানভীর আশিক









