‘ভূত সেজে অনেক বিরক্ত করেছি নিপুণকে। তাকে রীতিমত আতঙ্কের মধ্যে রেখেছিলাম।’ আর নিপুণ বলেন, ‘ভয় তো একটু পেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা অল্প সময়ের জন্য। অনেক মজা করেছিলাম নাটকটির শুটিংয়ে।’ সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে হাজির হন এ দুই অভিনয়শিল্পী। অনুষ্ঠান শেষে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আড্ডা হলো এই দুই অভিনশিল্পীর।
সজল বলেন, পার্থ সরকারের পরিচালনায় নাটকটির নাম ছিল ‘নূপুর’। শুটিং হয়েছে অনেক দিন আগে। প্রচারও হয়ে গেছে। গল্প শেষ হয় কিন্তু তার রেশ শেষ হয় না। যেটা বলছিলাম, নাটকটির জন্য ভূতুরে পরিবেশ তৈরি করা হয়। কিন্তু ভূতের চরিত্রটা করতে গিয়ে আমি নিজেও ভয় পেয়েছিলাম। এই নাটকের কাজ শেষ অনেক আগে। এখন আবার আমি আর নিপুণ একসঙ্গে কাজ করতে যাচ্ছি। নিপুণকে দেখে (তার দিকে তাকিয়ে) মনে পড়ছে সেই নাটকের কথা আর শুধুই হাসি পাচ্ছে। কী মজাটাই না করেছি তখন।

‘সত্যি কথা, দারুণ মজা করেছি আমরা!’ নিপুণের চটপট জবাব। এরপর একটু সময় নিয়ে তিনি বললেন, সজলের সঙ্গে আমার রসায়নটা মিলেছিল বেশ। আমরা আবার একসঙ্গে হয়েছি তবে নাটকে নয় একটি রিয়েলিটি শোয়ের প্রধান বিচারক হিসেবে।
প্রধান বিচারক হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে সজল বলেন, আরটিভির নতুন রিয়েলটি শো ‘ক্যাম্পাস স্টার’–এ আমি, নিপুণ আর কনা প্রধান বিচারক হিসেবে আছি। এটি শিগগিরই টিভিতে প্রচারিত হবে।

কেমন লাগছে বিচারকের আসনে নিজেকে দেখতে? নিপুণ বলেন, আমি এর আগে ‘হা শো’ নামের একটি রিয়েলিটি শোর বিচারক হয়েছিলাম। ফলে নার্ভাসনেস কাজ করছে কম। কিন্তু মানুষের যোগ্যতার বিচার করা তো আর সহজ কাজ নয়, সেটাই এখন করতে হবে।
‘প্রথমবার কোনো রিয়েলিটি শোর বিচারক হলাম। একটু তো নার্ভাসনেস কাজ করছেই। আমি তো নিজেই নিজের কাজের বড় সমালোচক। সেখানে আরেকজনের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করতে হবে। এটা আমার জন্য একটু কঠিনই বটে। তবে আশা করছি, কাজটা ভালোভাবেই পালন করতে পারব।’ বললেন সজল।
কাজের ব্যস্ততা নিয়ে নিপুণ বলেন, ‘এই মুহর্তে কোনো নাটক কিংবা ছবির কাজ করছি না। আমি এখন নিজের ব্যবসার কাজ নিয়ে একটৃু ব্যস্ত, তাই কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকব। তবে রিয়েলিটি শোয়ে সময় দেব।’
সজল বললেন, আমি তো একঘণ্টার নাটকে অভিনয় করি। গত কয়েকমাসে অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছি। এর মধ্যে ‘মইষাল’ নাটকটি আমার জন্য অনেক স্পেশাল ছিল। নাটকটি পরিচালনা করেছেন আজাদ কালাম। এখানে অভিনয় করতে গিয়ে প্রচুর কষ্ট করেছি। এমন একটা চরে শুটিং করেছি, যেখানে যাওয়া-আসা খুবই কঠিন। যাতায়াতের বাহন মহিষের গাড়ি। আর শুটিং করতে গিয়ে এমনও হয়েছে, আমরা দুপুরে শুধু মুড়ি খেয়ে দাঁড়িয়েছি ক্যামেরার সামনে।’
এরপর বললৈন, হাতে আরও কয়েকটি নাটক আছে, যেগুলোর শুটিং হবে খুব শিগগিরই। এর মধ্যে রুলীন রহমান, মুরাদ পারভেজ, মাহমুদ দিদারসহ কয়েকজন নির্মাতার নাটক। একটি ছবির কাজ চলছে। বদিউল আলম খোকনের এই ছবির নাম ‘হারজিৎ’। ছবিটি সম্পুর্ণ বাণিজ্যিক। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করছেন মাহিয়া মাহি।

একজনের চোখে অন্যজনের অভিনয়। নিপুণ সজলের দিকে মুচকি হেসে বললেন, ‘সজল একটু ফিল্মিক। নাটকে যখন সে অভিনয় করে, তার এক্সপ্রেশন অনেক সপ্রতিভ থাকে। যা আমাদের ছবির জন্য জরুরী। আমার তো সজলের অভিনয় অনেক ভালো লাগে। আমি মনে করি, চলচ্চিত্রেই তার ক্যারিয়ার গড়্ উচিত। তার যে অভিনয় প্যাটার্ন, সেটা কাজে লাগিয়ে চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে সে।
আর সজল বললেন, নিপুণের অভিনয় এমনিতেই অনেক ভালো লাগে। সে কতো ভালো অভিনয়শিল্পী, তা একটি নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করে টের পেয়েছি। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
আলোকচিত্রী : জাকির সবুজ







