চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৮ গোলের রোমাঞ্চে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে কোয়ার্টারে স্পেন

সুযোগ হাতছাড়ার মিছিল, শিশুতোষ ভুল, নিজেদের জালেই বল জড়ানো, অফসাইডে গোল বাতিল, গোলের জবাবে পাল্টা গোলের হিড়িক, শেষে স্পেনের হাসি। ইউরোয় ৮ গোলের রোমাঞ্চের এক ম্যাচে দেখা মিলল ফুটবলীয় চড়াই-উতরাইয়ের রোমাঞ্চকর চিত্রনাট্যের। তাতে ক্রোয়েশিয়াকে বিদায় করে সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন।

সোমবার রাতে কোপেনহেগেনে সেরা ষোলোর লড়াইয়ে গত বিশ্বকাপের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ের খেলায় ৩-৩ গোলে সমতায় থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে ৫-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্পেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

বলের দখল রাখা আর লক্ষ্যে শট নেয়ার আধিপত্যের ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে স্পেন, ম্যাচের ২০ মিনিটে গোলরক্ষক উনাই সিমোনের ভুলে। প্রায় মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির লম্বা ব্যাকপাস পা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নিতে যেয়ে অনেকটা হেলাফেলায় সিমোন যখন বল ফসকে নিজেদের জালেই জড়িয়ে যেতে দেন।

ম্যাচের ২০ মিনিটের সেই ভুলের মাশুল শোধ দিতে ৩৮ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় স্পেনকে। হোসে গায়ার শট প্রথমে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ক্রোয়েশিয়া গোলরক্ষক, কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেননি, ওঁত পেতে থাকা পাবলো সারাবিয়া ফিরতি বুলেট শটে সমতা ফেরান। সমতায় আসে বিরতি।

বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরেই লিড নেয় স্প্যানিশরা। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে গোল করেন সেজার আজপিলিকুয়েতা, বলের যোগান দিয়েছিলেন ফের্নান তোরেস, হেডে আসে গোল।

ম্যাচের ৭৩ মিনিটে স্পেনের একটি গোল অফসাইডের খাড়ায় বাতিল হয়। ৭৭ মিনিটে ফের্নান তোরেসের গোলেই জয় প্রায় ধরেই ফেলেছিল স্প্যানিশরা, পাউ তোরেসের বাড়ানো বলে গোল এলে ডাগআউটে উল্লাসে ফেটে পড়েন কোচ লুইস এনরিকেও।

এনরিকের ওই হাসি মিইয়ে যেতে সময় লাগেনি। সাত মিনিটের ব্যবধানে যখন দুই গোল করে খেলা অতিরিক্ত সময়ে নেয় ক্রোয়েশিয়া। প্রথমে ৮৫ মিনিটে মিসলাভ ওরসিচ ও পরে নির্ধারিত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ওরসিচের বাড়ানো বলে গোল করেন মারিও পাসালিচ।

ওরসিচের গোলটি অবশ্য ফিরিয়েছিলেন আজপিলিকুয়েতা, কিন্তু তার আগেই বল গোললাইন অতিক্রম করায় টিকে যায় গোল।

খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। তাতে আর ক্রোয়েটদের সুযোগ দেয়নি এনরিকের শিষ্যরা। ১০০তম মিনিটে ড্যানিয়েল ওলমোর বাড়ানো বলে জাল খুঁজে নেন আলভারো মোরাতা। তিন মিনিট পর ওলমোর বানিয়ে দেয়া বলেই ক্রোয়েটদের জালে শেষ পেরেকটি ঠোকেন মিকেল ওয়ারজাবাল।