চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৭ লাখ টাকা দিতে না পারাই কাল হয় নয়নের

জামিনে মুক্ত ভুল আসামি নয়ন

নাম ও চেহারায় মিল থাকায় ভুল আসামি হয়ে ২৭ দিন কারাগারে থাকার পর বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় জামিনে মুক্ত হলেন টাঙ্গাইলের তরুণ নয়ন। নয়নের অভিযোগ, থানা হাজতে তার কাছে দাবি করা ৭ লাখ টাকা না দেয়াতেই এমন পরিণতি তার।

এর আগে দুপুরে নয়নের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে সখিপুর আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরামুল ইসলাম তার জামিন মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইলের চাপড়াবিল এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সখিপুরের এক ছাত্রী। চারদিন পর উদ্ধার হওয়া ওই ছাত্রী জানায়, নয়ন নামের একজন তাকে অপহরণ করে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের ডিসি লেক এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যায়। পরে সেখান থেকে উদ্ধার করে পরিবার।

একই দিন থানায় অভিযোগে করে পরিবার জানায়, অপহরণের ঘটনায় নয়ন নামের একজন জড়িত। নামের সূত্র ধরে গ্রেপ্তার হন একই গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে বাবুল হোসেন নয়ন। ওই ছাত্রীও পুলিশের সামনে জোরালোভাবে শনাক্ত করে নয়নকে। তার নামে ধর্ষণ ও অপহরণের মামলাও করা হয়।

তবে অধিকতর তদন্তে দেখা যায় কারাগারে থাকা নয়ন নয়, ছাত্রী নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত বাসাইল উপজেলার নূহু মিয়ার ছেলের নয়ন। অভিযুক্ত নয়নকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। আদালতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় মূল আসামি নয়ন।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে অপরাধী না হয়েও বিনাদোষে ২৭ দিন কারাভোগের পর আজ জামিন পাওয়ায় খুশি নয়নের পরিবার। দোষীদের বিচারও চেয়েছে তারা। 

পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে নয়নের আইনজীবী  মো. সেলিম আলদীন বলেন, এ ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আমরা দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

নয়ন অভিযোগ করে বলেন, পুলিশকে বারবার নির্দোষ দাবি করলেও কোন লাভ হয়নি। আর থানা হাজতে মেয়ের চাচা মোতালেবের দাবিকৃত সাত লাখ না দেয়াতেই তাকে ২৭ দিন বিনাদোষে কারাভোগ করতে হয়েছে।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও দ্রুত মুক্তি পাওয়ায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকায় নিরাপরাধ নয়ন অংশ নিতে পারেননি বিএ ফাইনাল পরীক্ষাতেও। বুধবার এ বিষেয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

Bellow Post-Green View