চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৭ গোলের রোমাঞ্চে শেষ হাসি আবাহনীর

গোল-পাল্টা গোল, এরপর আবার গোল। রুদ্ধশ্বাস আর গোলময় এক ম্যাচই উপহার পেল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। প্রতিপক্ষ ঘরের দল আবাহনী লিমিটেড আর নর্থ কোরিয়ান দল এপ্রিল-২৫। দারুণ এক লড়াইয়ে শেষ হাসি হেসেছে স্বাগতিকরাই। ৭ গোলের রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশের জায়ান্ট আবাহনী লিমিটেড।

এএফসি কাপের ইন্টার জোন সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বুধবার মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী আর এপ্রিল-২৫। তাতে নর্থ কোরিয়ান দলটিকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় লেগে স্বস্তিই সঙ্গী হচ্ছে মারিও লেমোসের দলের।

বিজ্ঞাপন

প্রথমার্ধেই মাঠের দর্শকদের পকেট উসুল করে ছেড়েছে আবাহনী-এপ্রিল ২৫’র মধ্যকার ম্যাচ। চার মিনিটের ব্যবধানে গোল-পাল্টা গোলের খেলায় জমজমাট ৪৫ মিনিটের লড়াই দেখেছেন দর্শকরা।

ম্যাচের শুরুর মিনিটেই স্বাগতিকদের নিজেদের পায়ের জোর দেখাতে চেয়েছে নর্থ কোরিয়ান ক্লাবটি। প্রথম কয়েক মিনিট বুঝেশুনে তা মেনেও নিয়েছে আবাহনী! পরে খেলা গুছিয়ে পাল্টা আঘাত হেনেছে প্রতিপক্ষ রক্ষণে।

প্রথম দশ মিনিট এপ্রিলের খানিকটা দাপট সামলে ১২ মিনিটে প্রথমবার আক্রমণে যায় আকাশী-নীলরা। হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড কেভিন বেলফোর্ট দূরহ কোণ থেকে শট নিয়েছিলেন, তবে সেটা লক্ষ্য খুঁজে পায়নি।

বেলফোর্ট হতাশ করলেও ৩৩ মিনিটে আবাহনীকে প্রথম হাসির উপলক্ষ এনে দেন সোহেল রানা। নাবিব নেওয়াজ জীবনের বাড়ানো বলে বক্সের বাইরে থেকে উড়িয়ে শট নিয়েছিলেন এ মিডফিল্ডার। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে সেই শটে বল ঠাই নেয় জালে।

বিজ্ঞাপন

দুই মিনিট পরেই অবশ্য সেই গোল শোধ করে এপ্রিল-২৫। চোয়ে ইয়ং-হিউকের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ১-১।

আবাহনীর হাসি কেড়ে নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারেনি এপ্রিলও। ঠিক দুই মিনিট পর আকাশী-নীলদের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নাবীব নেওয়াজ জীবন। প্রথম গোলের কারিগরকে এবার সাহায্য করেছেন ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল।

প্রথমার্ধের মতো তুমুল জমজমাট দ্বিতীয়ার্ধের খেলাও। এবার গোলের শুরুটা হয়েছে এপ্রিল খেলোয়াড় রিম চল-মিনকে দিয়ে। নর্থ কোরিয়ান এ ফরোয়ার্ডের পা দিয়ে ৫৪ মিনিটে সমতা ফেরায় এপ্রিল।

কিন্তু দলটিকে শান্তিতে থাকতে দেননি সানডে চিজোবা। আকাশী-নীলদের এ নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডের ৫৭ ও ৬১ মিনিটের জোড়া গোলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় আবাহনীর দিকে।

কিন্তু নাটকের সেখানেই শেষ নয়। ৭৭ মিনিটে ডিফেন্ডার পাক সং-রকের হেডে গোল পেলে ব্যবধান কমিয়ে আনে এপ্রিল। ঘরের মাঠে পয়েন্ট খোয়ানোর শঙ্কায় তখন আবাহনী।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য হতাশ হতে হয়নি আবাহনীকে। কাঙ্ক্ষিত জয়টাই পেয়েছে দলটি। এএফসি কাপে টানা ১৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পর অবশেষে হারের স্বাদ পেল এপ্রিলরা। তবে আড়ালে আবডালে নিজের কাজটা ঠিকই সেরে ফেলেছে তারা। প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে আদায় করে ফিরছে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি গোল।

তাতে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে জয় পেলেই ফাইনালে উঠে যাবে নর্থ কোরিয়ান দলটি। আগামী ২৮ আগস্ট নিজ মাঠে ফিরতি লেগে নামবে তারা।

Bellow Post-Green View