চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৬৫’র বেশি বয়সীদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন দিতে জার্মানির নিষেধ

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের প্রয়োগ করতে নিষেধ করেছে জার্মানির ভ্যাকসিন কমিটি। তাদের দাবি, অধিক বয়সীদের ওপর অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে তথ্যের অভাব রয়েছে। তবে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনকে সব বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি করেছে যুক্তরাজ্য। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওবামা-আমলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ‘ওবামা কেয়ার’ ফিরিয়ে আনতে দু’টি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ট্রায়ালের সময় অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের সর্বাধিক সফল প্রয়োগ ছিলো প্রথমবারে পূর্ণ ডোজ এবং দ্বিতীয়বারে অর্ধেক ডোজে। এভাবে প্রয়োগে ৯০ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছিলো করোনার ভ্যাকসিনটি। তবে ফুল ও হাফ ডোজের সংমিশ্রণে চালানো ওই পরীক্ষায় ৫৫ বছরের বেশি বয়সী কোনো অংশগ্রহণকারী ছিলেন না। তারপরও, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলো অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নজুড়ে ভ্যাকসিনটি অনুমোদনের প্রশ্ন যখন এলো, তখন সদস্য দেশ জার্মানি বলছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের দেয়া উচিত হবে না। এ জন্য ট্রায়াল পর্যায়ে পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবকেই দায়ি করছে জার্মান ভ্যাকসিন কমিটি। তাদের মতে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্যই ভ্যাকসিনটি বেশি উপযোগী।

বিজ্ঞাপন

তবে জার্মানির সাথে একমত নয় যুক্তরাজ্য। ব্রিটেনের জনস্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান বিষয়ক প্রধান ডক্টর মেরি রামসে বলেছেন, ফাইজার-বায়োএনটেক এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকা – দুই ভ্যাকসিনই করোনার বিরুদ্ধে শক্তিশালী সুরক্ষা গড়ে তুলতে কার্যকর। ৬৫-ঊর্ধ্বদের ওপর অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে তথ্যের অভাবের কথা স্বীকার করলেও ডক্টর মেরি বলছেন, টিকাটির রোগপ্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার যে তথ্য রয়েছে তা যথেষ্ট। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তিনি জার্মান কমিটির বক্তব্যে চিন্তিত নন; ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।

এমন এক সময়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন প্রয়োগে বয়সের প্রসঙ্গটি এলো, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে ফাইজার বায়োএনটেক এবং মডার্না। ধীরগতিতে টিকাদান কার্যক্রমের জন্য সমালোচিত হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আর তাই প্রয়োজনে ভ্যাকসিন তৈরিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় কাউন্সিল।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বারাক ওবামা প্রবর্তিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তারই প্রথম ধাপ হিসেবে দু’টি নতুন নির্বাহী আদেশ সই করেছেন তিনি। এর ফলে ফলে আরও বেশি মার্কিনী দ্রুততম সময়ে টিকাদান প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হবেন।

সবশেষ তথ্যমতে ২০২০ সালে মার্কিন অর্থনীতির সাড়ে ৩ শতাংশ সংকোচন হয়েছে, যা ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের পর সর্বোচ্চ। গত বছরের শেষ ৩ মাসে ১ শতাংশ উন্নতি না হলে, পরিসংখ্যানটা আরও খারাপও হতে পারতো।

বিজ্ঞাপন