চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

করোনার প্রভাবে এশিয়ার প্রবৃদ্ধি শূন্য হওয়ার আশঙ্কা: আইএমএফ

করোনাভাইরাসের ভয়াবহ প্রভাবে গত ৬০ বছরের মধ্যে এই প্রথম থমকে গেছে এশিয়ার অর্থনীতি।এবার এ অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোটায় নামার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।বৃহস্পতিবার এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে করা এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক চ্যাংগইয়ংগ রি জানান,‘পুরো বিশ্ব অর্থনীতি যেন এক ভয়ঙ্কর ও অনিশ্চিত সময় অতিক্রম করছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলেও করোনার প্রভাব পড়বে মারাত্মকভাবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক দূরত্ব ‍ও মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে অন্যান্য পদক্ষেপের ফলে যে সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের প্রতি অবশ্যই সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে নীতি নির্ধারকদের। একইসঙ্গে অভাবে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা দিতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতিতে খুবই চ্যালেঞ্জিং ও অনিশ্চিত সময় পার করছি আমরা। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তার ব্যতিক্রম নয়। এ অঞ্চলেও করোনাভাইরাসের প্রভাব অত্যন্ত ভয়াবহ হবে। বিশেষকরে রপ্তানিতে অপ্রত্যাশিত মাশুল গুণতে হবে। এটি ব্যবসা করার সময় নয়, এশিয়ার দেশগুলোকে অবশ্যই নীতিগত সবধরণের হাতিয়ার কাজে লাগাতে হবে পরিস্থিতি উত্তরণে।’

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে ওই প্রতিবেদনে আইএমএফ জানায়, ৬০ বছরের মধ্যে এ প্রথম শূন্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে এশিয়া। তবে অন্য অনেক অঞ্চলই অর্থনৈতিক সংকোচনে পড়বে। সেই বিবেচনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে এশিয়া। ইতিপূর্বে বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে এশিয়ার গড় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৪.৭ শতাংশ, এছাড়া ১৯৯০ সালের এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের সময় প্রবৃদ্ধি হয় ১.৩ শতাংশ। এবার তার চেয়ে আরো খারাপ হবে।

তবে আইএমএফ আশা করে, এ বছর গ্রহণ করা নীতিগত হাতিয়ারগুলো কাজে লাগালে আগামী বছর এশিয়ার অর্থনীতিতে ৭.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আসবে। তবুও অনিশ্চয়তা রয়ে যায়। সংস্থার মতে, মানুষ বাসায় অবস্থানের কারণে এ বছর সেবা খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে আমেরিকা, জার্মানিসহ ইউরোপের দেশগুলো করোনায় অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।

আইএমএফ মনে করে, এশিয়ার সবেচেয়ে বড় অর্থনৈতিক দেশ চীনের প্রবৃদ্ধি আসবে এ বছর ১.২ শতাংশ। যা আগের বছরের ৬ শতাংশের চেয়ে অনেক কম।